স্টাফ রিপোর্টার, বারুইপুর ও মালদহ: পরিবার পরকীয়া প্রেমের কথা জেনে যাওয়ায় কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার পাথরপ্রতিমা থানার গঞ্জের বাজার এলাকায়। মৃতার নাম সুপ্রিয়া পাত্র(২৯)। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ৷

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে নিজের বাড়িতেই কীটনাশক খান ওই গৃহবধূ। পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান৷ সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে।

পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক ধরেই এলাকার এক যুবক স্বপন বেরার সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল৷ এই ঘটনার কথা কিছুদিন আগে ওই গৃহবধূর স্বামী জানতে পারেন। এ বিষয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবটাই অস্বীকার করেন সুপ্রিয়া। কিন্তু সেদিনের পর থেকেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। সোমবার বিকেলে আচমকা সেই প্রেমিক যুবকের ফোন আসে সুপ্রিয়ার ফোনে। সেই সময় তাঁর স্বামী অসীম পাত্র বাড়িতেই ছিলেন। কার ফোন ছিল তা জানতে চাইলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক অশান্তি হয়৷ এরপর রাতে নিজের ঘরে কিটনাশক খায় সুপ্রিয়া।

অন্যদিকে, স্বামীর অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় স্বামীর হাতে আক্রান্ত হতে হল স্ত্রীকে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহর ইংরেজবাজার থানার মহেশপুর এলাকায়৷ আহত স্ত্রীর নাম অনিতা হালদার৷ ঘটনার পর তাঁকে মালদহ মেডিক্যালে কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে ছোটন হালদারের সঙ্গে অনিতার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন থেকে ছোটনের সঙ্গে স্থানীয় এক প্রতিবেশী মহিলার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি ছোটনের স্ত্রী অনিতা হালদার সেই সম্পর্কের কথা জানতে পারে৷ এরপর তিনি তার প্রতিবাদ করে।

প্রতিবাদের জেরেই তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। ছোটন প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে বেধরক মারধর করত। এদিন সকালে সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই ছোটন লাঠি নিয়ে স্ত্রীর উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। এতে ওই গৃহবধূর মাথায় ও নাকে গুরুত্বর আঘাত লাগে। কোন ক্রমে পালিয়ে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আসে। সে সেখানে চিকিৎসাধীন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।