প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: নিরাপদে স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানালেন ডাইনি সন্দেহে ঘরছাড়া চাঁদমণি মূর্মূ।মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা আবেদনপত্রে তিনি জানান, ”আপনিই আমাদের একমাত্র ভরসা। আপনি সাহায্য করলে এই অসহায়, অশিক্ষিত, দুর্বল পরিবারটি রক্ষা পাবে। আমি আমার নাবালক সন্তানদের নিয়ে স্বামীর ভিটেয় বাস করে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মত বাঁচতে পারব।”

পূর্ব বর্ধমানের ১ নং ব্লকের দলুইবাজার ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের উলারা গড়ের বাগান এলাকার বাসিন্দা চাঁদমণি মূর্মূ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠি দিয়েছেন৷ সেখানে তিনি লিখেছেন, গতবছর ২ জুলাই স্থানীয় জোতদার শঙ্কর হাজরা আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনায় তাঁকে দায়ী করে ডাইনী অপবাদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তিনি সহ তাঁর এক নাবালক পুত্র ও কন্যা সহ তাঁর বৃদ্ধা মাকে ব্যাপক মারধোর করে গ্রাম ছাড়া করে দেওয়া হয়।

চাঁদমণি মূর্মূ অভিযোগ করেছেন, তাঁর ঘরবাড়ি সহ সম্পত্তি দখল করার জন্য এবং গ্রামের মোড়়ল সহ কয়েকজন মানুষ মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তাদের ওপর লাগাতার অত্যাচার করেছেন। এব্যাপারে মেমারী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তারা অভিযোগ না নিয়েই লুকিয়ে থাকার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেছেন চাঁদমণিদেবী।

তিনি জানান, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছেও তিনি বারবার ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এরপর মেমারি ১নং বিডিও এবং পরবর্তীকালে গতবছর ১১ অক্টোবর জেলাশাসক এবং সদর মহকুমা শাসক (দক্ষিণ)কেও জানান। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি।

এরমধ্যেই দলুইবাজার ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থসারথী খাঁ সরাসরি মেমারি-১ বিডিওকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেন, চাঁদমণি মূর্মূ গতবছর ২০ জুলাই গ্রামের নিজ বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। পঞ্চায়েত এই সমস্যার সমাধান করতে না পারার কারণে তাঁর কাছে পাঠিয়ে বিডিওকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছেন।

চাঁদমণিদেবীর অভিযোগ, ইতিমধ্যে তাঁর ঘরের মধ্যে থাকা সমস্ত জিনিসপত্র লুঠপাট করা ছাড়াও তার ঘরদোর ভাঙচুর করা হয়েছে। অপরদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চাঁদমণি মূর্মূকে ঘরে ফেরানোর জন্য সদর দক্ষিণ মহকুমা শাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।