সুভাষ বৈদ্য , কলকাতা : গৃহ শিক্ষকদের পেশার স্বীকৃতি এবং সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধসহ একাধিক দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ পশ্চিমবঙ্গ গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি।

বুধবার বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গ গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতির একটি প্রতিনিধি দল। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তারা যে সব দাবি পেশ করেন, তা হল

১) সরকারি আইনকে মান্যতা দিয়ে অবিলম্বে সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলে কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্কুলের শিক্ষাকর্মীদের টিউশন বন্ধ করতে হবে।
২) প্রজেক্ট ও প্রাকটিক্যালের নামে ছাত্র- ছাত্রীদের উপর স্কুল শিক্ষকের কাছে টিউশন পড়ার জন্য চাপ দেওয়া যাবে না।
৩) গৃহ শিক্ষকদের পেশার স্বীকৃতির দাবি।
৪) টিউশন এর সাথে যুক্ত স্কুল শিক্ষকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য বিশেষ সেল তৈরি করা হোক। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দাবি রাখেন।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংগঠনের মুখপাত্র সুজয় কুমার বর্মন জানান, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে টিউশন বন্ধ করতে ফের নোটিশ জারি করা হবে। এর আগে ২০১৮ সালে শিক্ষা দফতর সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের টিউশন বন্ধ করার জন্য নোটিশ জারি করেছিল। অভিযোগ, তার পরেও বহু শিক্ষক বহু শিক্ষক শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই শিক্ষা পর্ষদ এর বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতির সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে।সেখানেই সমস্যাগুলির সমাধান খোঁজা হবে।

গৃহ শিক্ষকদের পেশার স্বীকৃতির দাবি প্রসঙ্গে সংগঠনের বক্তব্য হল, সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার সত্ত্বেও গৃহশিক্ষকদের পেশা সমাজে স্বীকৃত পেশা নয়। বহু যুগ থেকে গৃহশিক্ষকতা চলে আসছে। অথচ এই পেশা আজও সমাজে স্বীকৃত নয়। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বর্তমানে কোনো সরকারের কাছেই সব শিক্ষিত মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। কিন্তু এই পেশা স্বীকৃতি পেলে বেকারত্বের হার কমবে। এবং লোন থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা গৃহশিক্ষকরা আগামীদিনে পেতে পারেন।