স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেল উত্তর দমদমের পরপর দুটি বাড়ি। চারটি দমকলের ইঞ্জিনের ঘণ্টা দুয়েকের প্রচেষ্টায় আয়ত্তে আসে আগুন। ঠিক কিভাবে হঠাৎ করে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটল সেই ব্যাপারে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের সদস্যরা। এদিকে আগুন লাগার ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নিমতা থানার পুলিশ। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ প্রথমে একটি ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখতে পান প্রতিবেশীরা । তাঁরাই সঙ্গে সঙ্গে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়াদের খবর দেন। তখন ঘরে কেউ ছিলনা ফলে কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। প্রতিবেশীদের মুখ থেকে ঘটনার খবর পেয়ে যতক্ষণে ওই ভাড়াটিয়ারা আসেন, ততক্ষনে দুটি বাড়িই আগুনের গ্রাসে চলে যায়। পরে খবর দেওয়া হয় বাড়ির মালিককে।

আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভাড়াটিয়া পিউ চট্টোপাধ্যায়। নিজেকে সামলে তিনি বলেন, “কয়েকদিন ধরেই কাগজে আজেবাজে কথা লিখে বাড়ির মধ্যে কেউ ছুড়ে দিচ্ছিল। সেসব কথা বলার মত না। কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। আজও সকাল বেলা উঠে দেখি ঘরের মধ্যে কাগজ। তাতে লেখা এক রাত কাটাতে হবে। না হলে ছেলেকে খুন করে দেব। সব ছারখার করে দেব। কিন্তু কে এই ধরনের কুপ্রস্তাব দিচ্ছে তার নাম ঠিকানা কিছুই ছিল না। ইচ্ছে করেই আগুন লাগিয়েছে।”

হুমকি চিঠি আসা ও তার পরেই আগুন লেগে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে অন্তর্ঘাতের রহস্য দানা বেঁধেছে। এই বিষয়ে উত্তর দমদম পুরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর সৌমেন দত্ত বলেন, “যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কিছুদিন ধরে ওদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাই ওদের মনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা আসাটাই স্বাভাবিক। প্রশাসনকে বলেছি তদন্ত করতে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।” নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিমতা থানার পুলিশ। এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনও রহস্য রয়েছে কিনা। কে বা কারা এই ধরনের হুমকি চিঠি দিচ্ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।