নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: খিদিরপুরের বসতি এলাকার বাসিন্দার জীবন এবার কাহিনী হয়ে ধরা দেবে হলিউড পরিচালক জ্যাক শোল্ডারের ফ্রেমে। জিলিয়ান কলকাতার খিদিরপুরের বাসিন্দা তবে বর্তমানে ব্রিটেনে থাকেন। বিদেশের মাটিতে থেকেও এখনও ভোলেননি দেশের শিকড়। ভোলেননি খিদিরপুরের হলদে দিনগুলো। এই স্মৃতিকে সম্বল করেই পরিচালক তৈরি করছেন ‘স্লামগার্ল মিলিওনিয়ার’।

ঘিঞ্জি-শ্যাওলা ধরা স্যাঁতস্যাঁতে গলি। দৃষ্টির খুব বেশি দূরে বিলীন হয়ে যাওয়ার মত জায়গা নেই। চারদিকে শুধুই রাশি রাশি ময়লা, ঝুপড়ি আর ছিঁড়ে যাওয়া ত্রিপল। ঠিক এই পরিবেশেই বেড়ে ওঠা জিলিয়ান হাসলামের। বর্তমানে হাসলাম ব্রিটেনের নাগরিক হলেও, এক সময় মা-বাবার সঙ্গে এই শহরের বুকেই থাকতেন তিনি। খিদিরপুরের সেই বসতি, তাদের রোজ জীবনের ঝুপড়ি, ভাইবোন-মা, বাড়ির সিঁড়ির কোণা সব টুকুই তার মনের কোনায়। এমনকি, যেসব বাড়িতে মা কাজ করতেন, সেসব কিছুই ভোলেননি জিলিয়ান হাসলাম।

পড়ুন: বুনো শিবের পুজোয় মেতেছে বাঁকুড়াবাসী

১২ জনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম সন্তান। বাবা রোনাল্ড হাসলাম এবং মা মার্গারেট জন্মসূত্রে ব্রিটিশ হলেও কর্মসূত্রে কলকাতায় আসেন। রোনাল্ড ব্রিটিশ সেনায় কর্মরত ছিলেন। তবে, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে চাননি। আর তখনই কলকাতায় থাকার মাশুল গুনতে হয়েছিল জিলিয়ানের পরিবারকে। কারণ, ভারতের কোনও কোম্পানি রোনাল্ডকে চাকরি দিতে চায়নি। শুরু হয় দুর্দিন, আধপেটা খাওয়া। অন্যদিকে, অপুষ্টিতে ভুগতে থাকে হাসলামের চার ভাইবোন।

একসময়ে এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পান হাসলাম। মোড় ঘোরে তাঁর জীবনের। ব্রিটেনে চলে যান। এখন তাঁর লেখা বইয়ে জুটেছে ‘বেস্ট সেলার’-এর তকমা। কলকাতায় আসবেন বলে এখন উচ্ছ্বসিত একসময়ের ‘স্লামগার্ল’ হাসলাম। তার এই জীবন নিয়েই তিনি লিখেছেন জীবনপঞ্জি- ‘ইন্ডিয়ান, ইংলিশ’। এই জীবনপঞ্জি অবলম্বন করেই তৈরি হচ্ছে জ্যাক শোল্ডারের ছবি। খুব শিগগিরিই হয়তো জ্যাককে সঙ্গী করে জিলিয়ান হাসলাম পা রাখবেন তাঁর জন্মস্থান কলকাতায়।

ছবির শুটিং হবে কলকাতায় এবং ব্রিটেনে। চিত্রনাট্য লিখছেন হলিউডের খ্যাতনামা চিত্রনাট্যকার জশুয়া রাসেল। হাসলামের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নাম উঠে এসেছে হলিউডের দুই বিখ্যাত অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলির। রেইকির কাজ শেষ হলেই শুরু হবে শুটিং।