বালুরঘাট: শহরের দিদি-বোনদের উদ্যোগে জীবনে প্রথম দোলের উৎসবে নাচ গান ও আবীরের রঙে উঠলো রুমা ও মৌমিতারা।

একটি অনাথ আশ্রমের আবাসিক এই মেয়েগুলির কারও বাবা-মা নেই, কারও আবার তা থেকেও দারিদ্রতার কারণে না থাকা অবস্থা। তাদের কেও পনের বছর ধরে, কেউ আবার সাত বছর ধরে অনাথ আশ্রমের আবাসিক।

বাইরের জগতের সকলে যখন পরিবার পরিজনদের সাথে মেতে দোলের উৎসবে। তখন নিবেদিতা হোম নামক অনাথ আশ্রমের আবাসিক নিষ্পাপ এই মেয়েরা চার দেওয়ালের ভেতর উৎসবের আনন্দ থেকেই বঞ্চিত হয়েই কাটাতে বাধ্য হয়। এবছর সকালে বিস্বাদের মধ্যেই দিনটা কাটবে বলে তাঁরা মনমরা হয়েছিল। কিন্তু বেলা বাড়তেই একঝাঁক দিদির ভিড়ে বদলে গেল সবটা। হৈহুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে এবছরের ফাগুনের উৎসবটা তাঁদের বেশ আনন্দেই কাটলো।

বালুরঘাটেরই একটি নাচের স্কুলের দিদিদের প্রচেষ্টায় দিনভর রঙের খেলায় মাতামাতি করতে পেরে আপ্লুত তাঁরা। অন্যান্য বছরের চাইতে এবছর একটু অন্যভাবে দিনটি কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছিল প্রজ্ঞা ডান্স একাডেমী নামক নাচের স্কুলের শিল্পীরা।

বৃহস্পতিবার তাঁরা শহরে প্রভাতফেরী করে দশটা নাগাদ শিল্পীরা উত্তমাশা পাড়ায় অবস্থিত নিবেদিতা হোমে গিয়ে সেখানকার আবাসিক মেয়েদের সাথে আবীর খেলায় মেতে ওঠেন। দিদিদের দেওয়া আবীরে রঙিন হয়ে উঠেছে তাঁরা। দিদিরা সেখানে রীতিমতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিলেন। তাতে আবাসিক মেয়েরাও সমান তালে অংশ নিয়ে দোলের নৃত্যে মাতোয়ারা হয়েছিল। হোমের অসহায় বোনেদের সাথে বসন্তোৎসবের দিনটি আনন্দে কাটাতে পেরে খুশি উদ্যোক্তা দিদিরাও।

নিবেদিতা হোমের আবাসিক রুমা মার্ডী এদিন জানিয়েছে যে সে দীর্ঘ এগারো বছর ধরে এখানে রয়েছে। হোমই তাঁর কাছে বাড়িঘর ও অন্যান্য আবাসিকদের নিয়েই পরিবার। জীবনে প্রথম এবার বসন্ত উৎসবে মাতলেন তাঁরা সকলে।

গত বছর পর্যন্তও এই ভাবে দিনটি কাটানোর সৌভাগ্য তাঁদের হয়নি। এবার নাচের স্কুলের দিদিদের আগমনে সত্যিই জীবনে প্রথম দোল পূর্ণিমা তথা উৎসবে নিজেদের অংশগ্রহণ ও আনন্দ উপভোগের সুযোগ পেয়েছে। দিদিরা তাঁদের রঙ মাখিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নাচ গানের আসরেও সামিল করিয়ে নিয়েছিলেন।

এদিকে আয়োজক প্রজ্ঞা ড্যান্স একাডেমীর শিক্ষিকা সুচেতনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে বিগত বছর গুলিতে কোনও শিশু উদ্যান অথবা কোন মাঠে বসন্ত উৎসব তাঁরা পালন করেছেন। বাইরে সকলে বিভিন্ন পরবে পরিবার পরিজনদের সাথে আনন্দে মেতে থাকার সুযোগ পেলেও হোমের আবাসিক ভাই বোনদের কপালে সেই আনন্দ উপভোগের সুযোগ হয়না। তাই এই বছর থেকে প্রতিবার হোমের আবাসিকদের সাথে দোল উৎসবের এই দিনটি তাঁরা কাটাবেন বলে মনে প্রাণে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজকের এই বিশেষ মুহূর্তে আবাসিক বোনদের সাথে আবীর মাখানোর খেলায় মেতে উঠতে পেরে তাঁরা সকলেই আপ্লুত।​

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।