আড়াই বছর আগে  পুজোর সময় বেজে উঠে ছিল “বসন্ত এসে গ্যাছে” গানটি ৷ সৌজন্য অবশ্যই সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘চতুষ্কোণ’ ছবি৷ কিন্তু এবারে দোলের আগে যেভাবে মার্চ মাসেও কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে তা দেখে অনেকেই সেই সুরে সুর মিলিয়ে গাইতে শুরু করেছেন- ‘‘বর্ষা এসে গ্যাছে৷’’

গত কয়েকদিনের অবস্থা দেখে দোলের দিনটা বৃষ্টিতে ভাসাতে পারে বলে আশংকা অনেকের মনে দানা বেঁধেছে৷ ফলে তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এখন গাইতে লেগেছেন-‘‘বসন্ত ভেসে গ্যাছে৷’’ গত বছর অবশ্য অবস্থাটার একেবারে ভিন্ন ছিল৷ দোলের আগেই  এতটাই গরম পড়ে গিয়েছিল যে তখন বলতে হচ্ছিল – ‘‘গরম লাগলেও বলতে হবে আজ বসন্ত৷’’ সেবার হোলির সময় গরমের জেরে জলের সঙ্কট দেখা গিয়েছিল দেশের বেশ কিছু প্রান্তে৷ বিশেষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং  জলের অপচয় রুখতে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন জলসম্পদমন্ত্রী  গিরিশ মহাজন সে রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদনও করেছিলেন, হোলির দিনে কোনও রকম রেন ড্যান্স-এর আয়োজন বন্ধ রাখতে ৷ তার বদলে তো এবার বিশেষত এ রাজ্যে ভিন্ন পরিবেশ৷বরুণদেব এতটাই সদয় যে প্রায় সর্বত্রই ‘ন্যাচারাল রেন’-এর ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন৷

আরও পড়ুন- গরম লাগলেও এখন বলতে পারি বসন্ত এসেছে

হোলির দিনে ভিজে রঙিন হওয়ার বাসনাটা নতুন কিছু নয় ৷ বিশেষত থিম পার্কের  যুগে তেমন কিছু ব্যবস্থা ইদানিং বিভিন্ন জায়গাতেই দেখা যায়৷ চৈত্রের সূর্যের প্রখর তাপ থেকে মুক্তি দেয় অনেককে ৷ হোলির দিনে ‘রেন ড্যান্স’-এর ফ্লোরে মনের আনন্দে সঙ্গীদের সঙ্গে ভেজার আনন্দটাই আলাদা তা বলার অপেক্ষা রাখে না ৷ কিন্তু গত বছর গোটা রাজ্যেই জলসঙ্কট রয়েছে এবং বহু জায়গা শুকিয়ে গিয়েছে তাই নির্জলা হোলি উৎযাপনের জন্য আবেদন রেখেছিল মহারাষ্ট্র সরকার৷ শুধু জনগণকে আবেদন করেই ক্ষান্ত হয়নি, হোলির দিনে কোনও রকম ‘রেন ড্যান্স’ করার জন্য যাতে কোথাও  জলের ট্যাংক সরবরাহ না করা হয় তার জন্য পুরসভাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী৷ জানিয়েছিলেন-  থিম পার্ক সহ অন্যান্য যেসব জায়গায় রেন ড্যান্সের ব্যবস্থা করা হয় সেখানে জল দেওয়া হবে না৷  কারণ হিসেবে মনে করিয়ে দেন সে রাজ্যে বহু মাইল অতিক্রম করে অনেককে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয়৷ গত বছর ওই সময় মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন বাঁধে ২৫ শতাংশ জল পড়ে রয়েছে  তাছাড়া কোনও কোনও স্থানে সঞ্চিত জলের পরিমাণ ৫শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷

তাই যদি দোলের দিনে এবার বৃষ্টি নামে তখন হতাশা কাটাতে লোকজন নয় এবারে ভাবুন না, আরে বাড়ির ছাদ থেকে ঘরের সামনের রাস্তা সর্বত্রই থিম পার্ক ৷ কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির ব্যবস্থা করতে হবে না৷ হোলির দিনে রঙিন হতে ট্যাকের পয়সা খরচা করে থিম পার্কে যাওয়ার দরকার নেই৷বরং বসন্ত উপভোগ করতে রঙ নিয়ে ঘরের বাইরে এসে মেতে উঠুন ‘ন্যাচারাল রেন ড্যান্স’-এ৷
সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়