সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি বাংলার উপরে। এদিকে দুয়ারে উপস্থিত দুর্গোৎসব। মহানগর থেকে উপনগরের ‘মুখ ঢেকেছে বিজ্ঞাপনে’। কিন্তু দুর্যোগ থেকে সেই বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং বাঁচানোর দিকে কারও নজর নেই।

লক্ষ কোটি টাকার পূজা কমিটির অনেকেই ঝড়ের আশঙ্কায় রয়েছেন। পুজোর মুখে এমন ঝড়ের অশনি সংকেতের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে বলেছেন। পাশাপাশি চলছে তাঁর পূজো উদ্বোধনী পর্ব। কিন্তু তাঁর শহুরে ‘কর্পোরেট’ আমলাদের নজর রয়েছে শুধু পুজোতেই। ‘তিতলি’ যে সাগরে তাণ্ডব দেখাতে শুরু করে দিয়েছে সেদিকে তাঁদের খেয়াল নেই।

হাওয়া অফিস বলছে ঝড় শক্তি ক্ষয় করে প্রবেশ করলেও হাওয়ার তীব্রতা থাকতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে। সঙ্গে ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার অর্থাৎ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এত সতর্কতার পরেও কর্পোরেশন অঞ্চলের মেয়র থেকে শুরু করে মেয়র পরিষদদের যেন কোনও ভাবনাই নেই। উত্তরে সবার হচ্ছে, হবে, হয়ে যাবার মতো গা ছাড়া কথাবার্তা।

সূত্রের খবর কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এখন মজে বৈশাখী ঝড়ে। সেখানে কোথায় লগে সাগরের ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। বারংবার ফোন করা হলেও কোনও যোগাগাযোগ উত্তর মেলেনি। সল্টলেকের মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, “এগুলো পুরসভার দায়িত্ব নয়। নিয়ম তো রয়েইছে হাওয়া স্পেস দিয়েই হোর্ডিং তৈরী করার। যারা করছেনা তারা সমস্যায় পড়বেন। আমরা এই বিষয়ে কিছু ভাবিনি বা পরিকলপনা নেই।”

হাওড়ার মেয়র পরিষদ দিব্যেন্দু মুখোাধ্যায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি দফতর তাঁরই দায়িত্বে। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনেই করা হয়। পূজো কমিটিকে নির্দেশও দেওয়া রয়েছে। অনেকে করেওছে। তবে না করার সংখ্যা বেশি। বিষয়টা দেখছি। নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ঝোড়ো হাওয়া এসে ব্যানার হোর্ডিং ছিঁড়ে ভেঙে ফেলে দেওয়ার পর কি সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে?