ফাইল ছবি

কাশ্মীর: তল্লাশি চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। বৃহস্পতিবার সকালে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনী। জম্মু কাশ্মীরের কিশতওয়ারের চিচ্ছা জঙ্গলে পাওয়া গেল নিষিদ্ধ পাক জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের গোপন ঘাঁটি।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি চালায় ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ানরা ও জম্মু কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী। এই গোপন ঘাঁটি থেকেই মূলত উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করত হিজবুল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। সেনা সূত্রে খবর এই গোপন ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। পাওয়া গিয়েছে একটি এ কে ৫৬ রাইফেল, ২৭ রাউন্ড গুলি সমেত একটি ম্যাগাজিন, একটি আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, একটি ৯ এমএম পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি সমেত একটি পিস্তল ম্যাগাজিন কিশতওয়ার এলাকায় বড়সড় হামলার ছক কষেছিল হিজবুল বলে মনে করছে সেনা। এই ঘাঁটিতে বসেই ছক কষা হচ্ছিল বলে খবর।

উল্লেখ্য ঠিক একই রকম দেখতে ও একই কায়দায় গড়া একটি গোপন ঘাঁটি বছর কয়েক আগে ব্যবহার করেছিল আফগানিস্তানের আল কায়দা জঙ্গিরা। টোরা বোড়া পার্বত্য এলাকায় এই ঘাঁটি গড়া হয়েছিল। এই ধরণের গুহাগুলির প্রবেশ পথ এতটাই ছোট হয়, যে চট করে চোখে পড়ে না। এই গুহাগুলির ভিতরে যে কোনও মানুষ থাকতে পারে, তা বাইরে থেকে দেখে বোঝা যাবে না।

তবে সেনা জানাচ্ছে এই গুহার ভিতরেই হিজবুলের ৫-৬ জন জঙ্গি থাকত। কারণ গুহার ভিতরে বেশ প্রশস্ত জায়গা রয়েছে। এই ধরণের গুহা অস্ত্র লুকিয়ে রাখা ছাড়াও, আত্মগোপনের উপযুক্ত জায়গা। কিশতওয়ারের এই গুহাতেই অন্যতম শীর্ষ হিজবুল নেতা জাহাঙ্গির সারুরি ছিল বলে জানতে পারা গিয়েছে। তবে সেনা তল্লাশি শুরু হতেই সে পালায়।

এদিকে, মে মাসের ১৯ তারিখেই দুজন হিজবুল জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়, তার মধ্যে একজন ছিল কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার ছেলে।জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একজন কনস্টেবল। আহত হন আরও একজন পুলিশ অফিসার ও একজন সিআরপিএফ জওয়ান। নিহত দুই জঙ্গির মধ্যে একজন তেহরিক-ই-হুরিয়ত গোষ্ঠীর প্রধান মহম্মদ আশরাফ সেহরাইয়ের ছেলে জুনেইদ সেহরাই বলে জানা যায়। এই জুনেইদ হিজবুলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিল। জঙ্গিরা যেখানে লুকিয়ে গুলি চালাচ্ছিল, সেই বাড়ি দুটি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয় সেনা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব