করাচি: চিকিৎসকরা চমকে যাচ্ছেন৷ কারণ বিভিন্ন পরীক্ষায় ধরা পড়েছে শয়ে শয়ে শিশুদের মধ্যে ছড়িয়েছে এইচআইভি জীবানু৷ এইসব অসুস্থ শিশুরা এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত, কিন্তু তা কিভাবে, কেন ঘটেছে কেউ জানে না। ঘটনাস্থল সিন্ধ প্রদেশ৷ সিন্ধু প্রদেশে সামান্য জ্বরে কাবু হয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে চিকিৎসা করতে গিয়ে সন্দেহ দানা বাধে৷ পরে বিশেষ রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ছে ৬০৭ জনের বেশি রোগী এইচআইভি আক্রান্ত৷ তাদের ৭৫ শতাংশ শিশু।

বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, দক্ষিণ পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর হচ্ছে৷ শিশুদের জ্বর কিছুতেই কমছেনা। বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন৷ সেখানে রক্ত পরীক্ষায় ভয়ঙ্কর সত্যিটা উঠে আসছে৷ ইতিমধ্যে ১৫টি শিশু এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে, যদিও তাদের কারও বাবা-মায়ের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। বিবিসিকে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এরপরেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ রক্ত পরীক্ষা দিতে হাজারে হাজারে মানুষ জড় হচ্ছেন৷

স্থানীয় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যৌনকর্মীরা বেশিরভাগই হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছে যান৷ তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি এতই অস্বাস্থ্যকর যে সেখানে পরে চিকিৎসা করাতে যাওয়া শিশুদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এইচআইভি৷ পাকিস্তানের মত দেশে বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার অনেক মানুষ প্রায়ই দক্ষ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে এই ধরনের হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য যান। কারণ টাকা কম লাগে। সেই চিকিৎসকদের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ থেকে বেশি ছড়াচ্ছে এইচআইভি৷

বিবিসি জানাচ্ছে, এই অবস্থায় সিন্ধ প্রদেশ জুড়ে প্রায় ৫০০ বেআইনি ক্লিনিক বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পাক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ৷ স্থানীয় একজন শিশু বিশেষজ্ঞকে সিরিঞ্জের মাধ্যমে এইডস ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিন্ধ প্রদেশের কর্মকর্তারা এই প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে।