কলকাতা২৪x৭: এই প্রথম নয়, ইন্দিরা রাজত্বেও সাধারণতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রীয় অতিথি আসেননি। পঞ্চাশ বছর আগে নয়াদিল্লির রাজপথে হয়েছিল যথারীতি সেনা কুচকাওয়াজ। বিউগল বেজেছিল। সবই ছিল হুড়োহুড়ি করে আয়োজন। ১৯৬৬ সালের কথা।

চলতি ২০২১ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসে কোনও রাষ্ট্রীয় অতিথি নেই। করোনাভাইরাস সংক্রমণ কারণে প্রথমে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী তাঁর আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন। পরে তাঁর জায়গায় সুরিনামের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনিও আসছেন না। ফলে রাষ্ট্রীয় অতিথির আসন শূন্য রেখেই এবছর ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে।

পাঁচ দশক পুরনো সময়ে এমনই রাষ্ট্রীয় অতিথি শূন্য সাধারণতন্ত্র দিবস পালিত হয়েছিল। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরবর্তী ২৬ জানুয়ারি দিনটি আসার আগে দুটি রাজনৈতিক বাঁক নেয় ভারত। প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আচমকা প্রয়াণে ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন ইন্দিরা গান্ধী। সাধারণতন্ত্র দিবসের দুদিন আগেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছিলেন। আর ইন্দিরা জমানার প্রথম বছরেই ২৬ জানুয়ারির বিশেষ সামরিক কুচকাওয়াজ হয়েছিল অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে। প্রথা মেনে রাষ্ট্রীয় অতিথি আমন্ত্রণ করার সময়ই মেলেনি।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাক সংঘর্ষের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে উদ্যোগী হয় আন্তর্জাতিক মহল। ১৯৬৬ সালে এই আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী গিয়েছিলেন ততকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের তাশখন্দ শহরে (বর্তমানে উজবেকিস্তান)। সোভিয়েত মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান রাজি হন তাশখন্দ চুক্তিতে।

১৯৬৬ সালের ১০ই জানুয়ারি তাশখন্দে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি সম্পাদিত হয়। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী শাস্ত্রীর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। যদিও সোভিয়েত সরকার ঘোষণা করেছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। এই মৃত্যুর কারণ মেনে নিতে পারেনি প্রয়াত শাস্ত্রীর পরিবার।

তাশখন্দে প্রধানমন্ত্রী শাস্ত্রীর আকস্মিক প্রয়াণের পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কংগ্রেস মনোনীত করে ইন্দিরা গান্ধীকে। তিনি শপথ নেন ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি। এর দুদিন পরেই সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। একদিকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর শেষকৃত্য অন্যদিকে ২৬ জানুয়ারির অনুষ্ঠান সবমিলে তথৈবচ অবস্থা। ফলে ১৯৬৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবস অতিথি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়াই করতে হয়েছিল।

ইতিহাসের চাকা ঘুরেছে, এবার করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে সাধারণতন্ত্র দিবসে আরও একবার রাষ্ট্রীয় অতিথির আসন থাকবে শূন্য।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।