স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: শহর জুড়ে এখন হালকা হিমের পরশ। সেই সঙ্গে আলোর ধারায় মাতোয়ারা ভুবন। আজ কালীপুজো। মহানগর থেকে জেলা, জেলা থেকে শুরু করে বনেদী বাড়ি হোক বা প্রাচীন ঐতিহ্যের পুজো। সব জায়গায় এখন শুধু খুশি খুশি রব। আকাশে বাতাসে মিশে আসে শ্যামা মায়ের আগমন ধ্বনি। কলকাতা শহরের পাশাপাশি মায়ের পুজওর আয়োজনে পিছিয়ে মফস্বল শহর থেকে শুরু করে জেলা। সর্বত্রই প্রথা মেনে চলছে মায়ের পুজোর আয়োজন।

আর প্রাচীন প্রথা মেনে আজও প্রতিদিন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ছিন্নমস্তা মন্দিরে মায়ের পুজো হয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, এখানে মায়ের পুজোর সঙ্গে সঙ্গে মায়ের জন্য টগর ফুলের মালা আসে স্থানীয় উপসংশোধনাগার থেকে। শীত, গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা, দীর্ঘ ৪০ বছরের এই প্রথায় ছেদ পড়েনি আজও। প্রতিদিন নিয়ম করে বিষ্ণুপুর উপসংশোধনাগারের পুরুষ বন্দীরা নিজেদের হাতে মালা তৈরী করে পাঠান এখানে। কার্তিকেয় অমাবস্যায় কালী পুজোর দিন সেই মালা আকারে বেশ খানিক বড় হয়। জানা গিয়েছে, এদিন উপসংশোধনাগারের বন্দীরা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে বিশালাকারের টগর ফুলের মালা তৈরী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এবং পড়ে সেই মালায় এক মহিলা কর্মীর হাত দিয়ে তারা পাঠিয়ে দেন ছিন্নমস্তা মন্দিরে। আর এই পুজোর পিছনে রয়েছে এক অজানা ইতিহাস। যা পুরনো কথা মনে করিয়ে দেয়।

মন্দির সূত্রে খবর, বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পেশায় ব্যবসায়ী কৃষ্ণ মোহন গুঁই তাঁর ৯৩ বছর বয়সে স্বপ্নাদেশ পেয়ে বিষ্ণুপুর শহরের দলমাদল রোডে ছিন্নমস্তা মন্দির তৈরী করে ছিলেন। তার আগে তিনি শহরের তুড়কি আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারনে এখানে প্রায়শই আসতেন। মন্দিরে রাজস্থান থেকে আনা মা ছিন্নমস্তার মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিত্য পুজার পাশাপাশি প্রতি অমাবস্যায় মায়ের বিশেষ পুজো ও ভোগ নিবেদন করা হয়। জানা গিয়েছে, এছাড়াও ফি বছর ১৩ শ্রাবণ তারিখে মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন বিশেষ পুজোপাঠ ও অন্নভোগের আয়োজন করা হয় ভক্তদের জন্য। এবং ওই দিন হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রসাদ গ্রহণ করেন।

এদিকে বন্দীদের মন্দিরে প্রতিদিন নিয়ম করে মালা পাঠানো প্রসঙ্গে, বিষ্ণুপুর উপসংশোধনাগারের আধিকারিক গৌতম কুমার সরকার বলেন, ‘এখানকার বন্দীরা উপ সংশোধনাগারের ভিতরে থাকা ফুল গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করে মালা তৈরী করে মায়ের মন্দিরে পাঠিয়ে থাকেন’। তবে এই নিয়ম ঠিক কবে থেকে চালু হয়েছে তার জানা নেই বলেই তিনি জানিয়েছেন। এখানে কাজে যোগ দেওয়ার দিন থেকেই এই বিষয়টি তিনি দেখে আসছেন বলে জানান।

শুধু তাই নয়, তিনি নিজে দীর্ঘ ১৫ ধরে বন্দীদের তৈরী মালা মন্দিরে পৌঁছে দিয়ে আসছেন জানিয়ে উপ সংশোধনাগারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী রেখা দুবে বলেন, এখানকার বন্দী ভাইরা প্রতিদিন সকালে স্নান করে মালা তৈরী করেন। আমি এখানে কাজে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই প্রথা চলে আসছে। তবে কালী পুজার দিন ঐ মালা আকারে অনেক বড় হয় বলেই তিনিও জানিয়েছেন।

সূত্রের খবর, বিষ্ণুপুর উপ সংশোধনাগারে ৬৬ জন বন্দী রাখার মতো পরিকাঠামো রয়েছে, যদিও অনেক সময় তার বেশী বন্দি এখানে থাকেন। নিয়মানুযায়ী এখানেও পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক ওয়ার্ড রয়েছে। পুরুষ ওয়ার্ডে থাকা বন্দীরা উপ সংশোধনাগার চত্ত্বরে থাকা টগর গাছের ফুল তুলে মালা তৈরী করে ছিন্নমস্তা মন্দিরে পাঠান।

ছিন্নমস্তা মন্দিরের পুরোহিত অরুণাংশু গোস্বামী বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ন’বছর এখানে রয়েছি। ঝড়, ঝঞ্ঝা প্রাকৃতিক দূর্যোগ যাই হোক না কেন প্রতিদিন নিয়ম করে উপ সংশোধনাগারের বন্দিরা এখানে টগর ফুলের তৈরী মালা পাঠান’। ‘তবে ১৩ শ্রাবন বাৎসরিক উৎসব ও কালী পুজো আরো বড় আকারের মালা তারা পাঠান’। ‘সেই মালা প্রতিদিন মাকে পরানো হয় বলে তিনি জানান’।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।