স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: গোটা বাংলা জুড়ে চলছে আলোর উৎসবের মরশুম। আজ কালীপুজো ও শুভ দীপাবলি। দেবীর মঙ্গল দীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে রাজপথ থেকে শুরু করে মফস্বল জেলার অলিগলি। শুরু হয়েছে শ্যামা মায়ের পুজো ঘিরে আমবাঙালির উৎসাহ উদ্দীপনার রাত। আট থেকে আশি সবাই মজেছে পুজোর আনন্দে আজ।

আর শেষ মুহূর্তের এই পুজোর স্বাদ চেটেপুটে নিতে মাঠে নেমে পড়েছে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন জেলার পুজো গুলিও। কালীপুজোর তালিকায় পিছিয়ে নেই বাঁকুড়া শহরও। অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এই জেলার সোনামুখী সকলের কাছে কালীক্ষেত্র নামে পরিচিত। কারন একমাত্র এই জেলার সোনামুখী অঞ্চলে সব থেকে বেশী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবছর।

জানা গিয়েছে, প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এই জেলাও মেতে উঠেছে কালীপুজোর আয়োজনে। এই জেলার কালিক্ষেত্র নামে পরিচিত সোনামুখী অঞ্চলেও বেশ ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে কালীপুজো। জেলা জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর তোড়জোড়। মণ্ডপ থেকে শুরু করে এই জেলার প্রাচীন কালী মন্দিরগুলি সব জায়গাতেই চোখ রাখলে দেখা যাবে ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের ঢল। বাদ নেই সোনামুখীও। সূত্রের খবর, এখানকার বেশীরভাগ কালী পুজো গুলি নিয়ে অসংখ্য লোককথা যেমন প্রচলিত আছে, তেমনি অদ্ভূত সব নামও রয়েছে সেই সব পুজোর। তার মধ্যে এখানকার ধীবর পাড়ার ‘ছেলে কালী’র পুজোর কথা উল্লেখযোগ্য।

শুধু তাই নয়, ‘ছেলে কালী’ নাম নিয়েও রয়েছে এর পিছনে এক গল্প। পুজো কমিটির সদস্য অশোক ধীবর বলেন, আজ থেকে প্রায় ৫৮ বছর আগে এই পাড়ার মানুষ দারিদ্রতার সঙ্গে দিনযাপন করতেন। বাবা মায়ের দুঃখ, দুর্দশা নিবারণের আশায় পাড়ার ছোটো ছোটো ছেলেরা সেই সময় মায়ের আরাধনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কালীদাস ধীবর নিজে হাতে দেবী মূর্তি করলেন। সব ছেলেরা মিলে বাঁশ, বিভিন্ন ধরনের গাছের ডালপাতা দিয়ে মণ্ডপ তৈরী করলো তাঁরা। সমস্ত অন্ধকারময় দিক ঘুচিয়ে পরিবারে সকলে সুখে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে তার প্রার্থনা জানিয়ে পুজো শুরু করে তাঁরা। জানা গিয়েছে, পরে মা পাড়ার ছেলেদের আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বপ্নাদেশ দেন। তখন থেকেই আর ওই পাড়ায় কোনও বাড়িতে অভাব নেই বলেই তিনি জানান। পাড়ার ছেলেরা এই পুজো শুরু করেছিল তাই এই পুজো ‘ছেলে কালী’ নামেই পরিচিতি পেয়েছে বলে অভিমত রয়েছে।

শুধু তাই নয়, ৫৮ বছর আগে শুরু হওয়া এই পুজোর জৌলুস দিনে দিনে বেড়েছে। তবে এখনও কোনও স্থায়ী মন্দির নয়, প্যাণ্ডেল খাটিয়ে ভক্তি সহকারে পুজোর উপরেও জোর দেন বর্তমান উদ্যোক্তারা।