সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: স্বাধীনতার প্রথমদিকটা টাটা গোষ্ঠীর পক্ষে ভালোই যাচ্ছিল৷ সেই সময় সরকারের লাইসেন্স নীতি যাই হোক না কেন, টাটা গোষ্ঠীর সংস্থা টিসকো, টেলকো-র ভালো রকম সম্প্রসারণ হচ্ছিল৷ যদিও আবার নেহরুর জাতীয়করণ নীতি শুরু হওয়ায় এই সম্প্রসারণ অবশ্য কিছুটা ব্যহত হয়৷ বিশেষত এয়ার ইন্ডিয়া এবং নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স কোম্পানি রাষ্ট্রীয়করণ করায় এই সম্প্রসারণ কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল৷ সরকারের এমন নীতির জন্য যে টাটা গোষ্ঠী হতাশ হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

তবে পঞ্চাশের দশকে টাটা গোষ্ঠীর ব্র্যাণ্ড ল্যাকমে ( Lakme) জন্ম নিয়েছিল৷ কারণ সেই সময় এক জটিল পরিস্থিতিতে একেবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)থেকে অনুরোধ গিয়েছিল মহিলাদের জন্য প্রসাধনী ও সুগন্ধী (Cosmetic and perfume)সামগ্রী উৎপাদন করার জন্য৷ ওই সময় সরকায় সেই সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল যেগুলি আদৌ অত্যাবশ্যকীয় নয়৷ ফলে ওই সব পণ্য সামগ্রীর মধ্যে পড়ে গিয়ে ছিল প্রসাধনী, সুগন্ধী ইত্যাদি৷

সেই সময় দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলি এমন ধরনের প্রসাধনী ও সুগন্ধী সামগ্রী উৎপাদন করত না, যা দেশের অভিজাতরা ব্যবহার করতে পারত৷ ফলে ওই পরিস্থিতিতে বেশ কিছুটা হতাশ হচ্ছিলেন দেশের অভিজাত মহিলারা৷ তারা কোনও বিকল্প ব্যবস্থা চাইছিলেন৷ যখন আমদানি বন্ধ তখন বিকল্প হিসেবে উচ্চমানের প্রসাধনী ও সুগন্ধী যাতে দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থা হয় তারই দাবি উঠেছিল৷ আর মহিলাদের একাংশের এই দাবি ধীরে ধীরে রীতিমতো জোড়াল হচ্ছিল৷ ফলে ওই সব মহিলাদের আন্দোলনের রেশ প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান কিংবা দফতরেও আছড়ে পড়েছিল৷

ওই সময় একদল মহিলা প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁর বিদেশমন্ত্রকে যাওয়ার পথ আটকে অবরোধ করেন৷ অন্যদিকে আবার ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জমা হতে থাকে একই বিষয়ে অনুরোধ নিয়ে লেখা মহিলাদের প্রচুর চিঠি৷ সেই সময় বাবা জহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তথা তিনমূর্তি ভবনের অতিথি সেবার দায়িত্বে(hostess) ছিলেন৷ ফলে মহিলাদের আন্দোলনে ইন্দিরার নজরে আসে৷ তিনি ওই আন্দোলনরত মহিলাদের আশ্বস্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছিলেন৷

দেশের একদল মহিলাদের এমন দাবির চাপে সরকারের পক্ষ থেকে টাটা-সহ আরও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীকে তখন এই প্রসাধনী উৎপাদনের জন্য অনুরোধ করা হয়৷ পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেওযা হয়৷ এই ঘটনার জেরে ১৯৫২ সালে জন্ম নেয় টাটা’র Lakme ব্র্যান্ড৷ তখন একটি ফরাসি সংস্থার সহায়তায় টাটা গোষ্ঠীর অন্যতম সংস্থা টাটা অয়েল মিল কোম্পানি ( TOMCo) এর একটি বিভাগ হিসেবে এই প্রসাধনী ব্যান্ডের জন্ম হয়৷ তবে ১৯৯৬ সালে টাটা গোষ্ঠী এই ‘ল্যাকমে’-কে হিন্দুস্থান লিভারের কাছে বেচে দেয়৷

তথ্যঋণ
The Tata Group: From Torchbearers to Trailblazers
By Dr. Shashank Shah