ইসলামাবাদ: শতাব্দী প্রাচীন গুরু নানক প্যালেসে হামলা৷ পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল শহরে অবস্থিত প্রাচীন এই ঐতিহাসিক সৌধটি হামলার আঘাতে রীতিমত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ সৌধের জানলা দরজা খুলে নেওয়া হয়েছে৷ ভাঙচুর চালানো হয়েছে সৌধের একাংশে৷

সোমবার পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷ চারতলা ভবনের দেওয়ালে ভাঙচুর চলেছে৷ এই দেওয়ালে গুরু নানক সহ বেশ কয়েকজন শিখ ধর্মগুরুর ছবি আঁকা ছিল৷ সংবাদপত্র দ্য ডন জানাচ্ছে, শুধু ধর্মগুরুরাই নন, ওই দেওয়ালে আঁকা ছিল বেশ কয়েকজন হিন্দু শাসক ও রাজার ছবিও ছিল৷ সেসবই নষ্ট করা হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ৷

সৌধটির নাম প্যালেস অফ বাবা গুরু নানক৷ সারা বছর ধরে গোটা বিশ্ব থেকে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ দর্শন করতে আসেন এই প্রাচীন সৌধ৷ প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে গুরু নানক প্যালেসটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা যায়৷ লাহোর থেকে ১০০ কিমি দূরত্বে নারয়োল শহরে সৌধটি অবস্থিত৷ সৌধের মধ্যে রয়েছে মোট ১৬টি ঘর৷

স্থানীয়রাই এই ভাঙচুরের পিছনে রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন৷ শুধু সৌধে ভাঙচুর নয়, দামি কাঠের দরজা জানলা খুলে নেওয়া হয়েছে৷ বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে চড়া দামে৷ কিন্তু প্রশাসন কেন কোন ব্যবস্থা নেয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ সৌধটি কার সম্পত্তি তা জানা যায়নি৷ তবে প্রশাসন এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল৷

স্থানীয় এক বাসিন্দা মহম্মদ আসলাম জানান, এই সৌধটির সঠিক বয়স জানা যায়নি৷ চলতি ভাষায় একে আমরা মহলম বলে ডাকি৷ প্রচুর মানুষ এখানে আসেন সৌধটিকে দেখতে৷ কিন্তু কারা এই ঘটনা ঘটালো বোঝা যাচ্ছে না৷

এই সৌধের তিনটি তলা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ সংবাদপত্র ডন জানাচ্ছে, ভাঙচুরের খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছেছেন ডেপুটি কমিশনার, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা,৷

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে এই ঘটনার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷ তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ