স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে। এবার থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য দিব্যাঙ্গদের মিলবে সরকারের তরফে বিশেষ বীমা এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা করা হবে চাকরিরও। আর এই খবরে খুশির হাওয়া বইছে নিমতৌড়ী দিব্যাঙ্গদের বিশেষ বিদ্যালয় ও হোম জুড়ে। ওরা কেউ দৃষ্টিহীন, কেউ মানসিক প্রতিবন্ধী, কেউ শ্রবনসংক্রান্ত আবার কেউবা অস্থিসংক্রান্ত সমস্যায় দিব্যাঙ্গ। লেখাপড়া, খেলাধূলা, গান-বাজনা, গবেষনা এবং আবিষ্কার বা সামাজিক সংক্রান্ত যে কোনও কাজে কোনও অংশেই কম নয় তাঁরা।

উপযুক্ত যত্ন-পরিচর্যার সুযোগ পেলে, ওরা লেখা-পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনান্য সকল ক্ষেত্রে ওদের প্রতিভাকে তুলে ধরতে পারে। নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতি বিশেষ বিদ্যালয়ে পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্লক, জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য ছিনিয়ে তার প্রমান দিয়েছে অনেকবার। ওদের এই সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতে সেদিন ভুল যায়নি তৎকালীন সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।

পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির সহযোগিতায়, শিলি, সোনালী ও পঞ্চমীরা মানসিক প্রতিবন্ধী হয়েও স্পেশাল অলিম্পিকে সোনা ও রুপা ছিনিয়ে এনেছে। ওদের জন্য জেলার প্রতিটি নাগরিক গর্বিত। সেই ধারাবাহিকতার ছেদ পড়েনি আজও। প্রতি বছরই সরকারী ভাবে জেলায়-রাজ্য ও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিশেষ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে ওদের উৎকর্ষতা ছিনিয়ে এনে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে।

২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়া নীতির ফলে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য পেলে সম্মান পাওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারী ভাবে ব্লক, জেলা, রাজ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেমন বিশেষ সাফল্য অর্জন করবে। তাদের বিশেষ ভাতা ও চাকুরীর সুযোগ থাকবে। এরফলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অনুশীলনে মাঠ ভরে যাবে, ক্রীড়া জগতে গতি আসবে তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদের শরীর, মন এবং সুন্দর চরিত্র গঠন হবে। সেক্ষেত্রে দিব্যাঙ্গ ছাত্র-ছাত্রীরাও যুক্ত হতে পারবে।

রাজ্য সরকারের ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্তে খুশির আবহ দিব্যাঙ্গদের হোম জুড়ে। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাতে ভোলেনি তাঁরা। অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁদের আপনজন তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও। কারণ, সাংসদ থাকা কালীন যার শুভ সূচনা করে ছিলেন তিনি, তা আজ পরিপূর্নতা লাভ করল।

হোমের শিলি, সোনালী,পঞ্চমীরা অলিম্পিকে যেমন সাফল্য লাভ করেছে। তেমন, সাফল্য লাভ করেছিল পার্বতী, সুপর্না, দীপংকর, মীরা, তন্ময়, প্রবীর বর্মন, সুদীপা সেনাপতি, শকুন্তলা, কুহেলী, মৌমিতা, সমিরন, শুভ্রা বাগরা। নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতির সাধারন সম্পাদক জানান – তাদের সাফল্যে শুধু সম্বর্ধনা জ্ঞাপন নয় রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে তাদের কঠিন পরিশ্রম কে কুর্নিশ জানানোর সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। সরকারী ভাবে দিব্যাঙ্গদের জন্য এই ভাবে নানান ক্ষেত্রে এগিয়ে এলে আগামী দিনে দিব্যাঙ্গরা তাদের অনেক বেশী সংখ্যক দিব্যাঙ্গজন শারিরীক মানসিক অক্ষমতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাবে।