সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : কলকাতার রাস্তায় উদ্ধার হল জোড়া কামান। বিশাল দৈর্ঘ্যের সেই কামানগুলিকে স্থান দিচ্ছে কলকাতাপ্রেমী মানুষ। কলকাতার ঐতিহ্যকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নিয়ে বেশ কিছু মানুষ লড়ছেন। সোশ্যাল মাধ্যমে একটি সংগঠনও তৈরি করে ফেলেছেন তারা। তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই শেষ পর্যন্ত ঘর পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী দুটি সুবিশাল কামান।

জোড়াবাগান অঞ্চলে মহর্ষি দেবেন্দ্র রোডের ওপর ২০১০ সাল থেকে পড়ে থাকা দুটি কামানের সম্মানজনক আশ্রয় পাইয়ে দিয়েছে ‘পুরোনো কলকাতার গল্প’ নামে সোশ্যাল মাধ্যমে তৈরি হয় এই সংগঠন। পাশাপাশি সেই দুটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পন্ন কামানের ঐতিহাসিক পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যও আবিষ্কার করেছে তারা। একপ্রকার কামানের ঠিকুজি গুষ্ঠি বার করে ফেলেছে তারা।

বহু দিন ধরেই এই কামান দুটিকে নিয়ে লড়ে যাচ্ছিল সংস্থাটি। এলাকার দুই কাউন্সিলরের সঙ্গে লেগে থেকে বেঘর হয়ে যাওয়া কামানগুলিকে ঘর পাইয়ে দিয়েছে। কামান দুটিকে সঠিক পদ্ধতিতে স্থাপন করেছেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সুজাতা_সাহা এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর শ্রী অজয় সাহা মহাশয়।

কামানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কতটা? ‘ অর্থাৎ কামান দুটির বয়স, উৎপত্তি স্থল এবং প্রাথমিক ব্যবহারের সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে স্ট্রান্ড ব্যাংক রোডে মেয়ো হাসপাতালের সামনে মাটির নীচে দাঁড় করানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল কামান দুটি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল সম্ভবত সিরাজদ্দৌলার কলকাতা আক্রমণের সময়ের ওই কামানগুলি। পরে বিশিষ্ট কামান বিশেষজ্ঞ অমিতাভ কারকুনের তথ্যের ভিত্তিতে ‘পুরোনো কলকাতার গল্প’-র আবিস্কার কামান দুটির একটি ১৭৬০ সালের অপরটি ১৭৮৭ সালের। তৈরি হয়েছিল ব্রিটেনে। প্রথম কামানটি আর্মস্ট্রং- ফ্রেডরিক প্যাটার্নের কামান (১৭৬০-১৭৮৬) এবং ব্লমফিল্ড প্যাটার্নের কামানটি (১৭৮৭-১৮৬০) ব্রিটিশ নৌসেনার ব্যবহৃত হয়েছিল।

প্রশ্নটি উঠেছে, কামান দুটি স্ট্রান্ড ব্যাংক রোডে মেয়ো হাসপাতালের সামনে এল কিভাবে? জানা যাচ্ছে, হুগলী নদীর বাম তীর বরাবর প্রসন্ন কুমার ঘাটটিকে ইংরেজ রাজত্বকালে বাণিজ্য ও যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘাটে জাহাজ ও বড় নৌকাগুলিকে নোঙর করার জন্য অ্যাঙ্কর বা নোঙর করার প্রয়োজন হত।

সেই সময় ব্রিটিশ জাহাজগুলি তাদের বিভিন্ন নৌযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত কামানগুলিকে হুগলী নদী তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাটের কাছে উল্লম্ব ভাবে মাটিতে পুঁতে দিত। ঠিক সেভাবেই ৪-৫ ফুট ব্যবধানে কামান দুটিকে পাওয়া গিয়েছিল। গ্রুপের সদস্যদের ব্যাখ্যা এটাই যে আগে নানা ধরণের কথাবার্তা এলেও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে থেকে কথা বলে তারা বর্তমানে যে সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছেন সেটাই সঠিক। দুটি কামানের সামগ্রিক আকার ও বৈশিষ্ট্য সেই তথ্যই দিয়েছে তাঁদের।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ