ঢাকা: হিরো আলমের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ। পরকীয়ায় বাধা পেয়ে স্ত্রী সাদিয়া বেগম সুমিকে মারপিট করে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রী সুমি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং হিরো আলমও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের ওই ঘটনায় বুধবার সকালে হিরো আলম ও দুপুরে তার শ্বশুর সাইফুল ইসলাম সদর থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষকে রাতে থানায় ডাকা হয়েছে।

হিরো আলম তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জের ধরে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শ্বশুর সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাদিয়া বেগম সুমির নেতৃত্বে ৪-৫ জন তার ওপর চড়াও হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে মারপিট করেন। পরে তিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বুধবার সকালে সদর থানায় স্ত্রী, শ্বশুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তার বাড়িতে গিয়ে হামলা, মারপিট ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন।

এদিকে সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, যৌতুকের কারণে হিরো আলম মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তার মেয়ে সুমির ওপর নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে তিনি তার মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে তিনি বুধবার দুপুরে সদর থানায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি হিরো আলমকে মারপিট করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদিয়া বেগম সুমি সাংবাদিকদের বলেন, দুই মাস পর গত সোমবার রাতে হিরো আলম বগুড়া শহরতলির এরুলিয়া গ্রামের বাড়িতে আসেন। রাতে দীর্ঘ সময় ঢাকার এক মহিলার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এর প্রতিবাদ করলে হিরো আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেদম মারপিট করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শুনেছি তিনি (হিরো আলম) ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আর এই কারণ আমার ও দুই সন্তানের খোঁজ রাখেন না এবং সংসারের খরচ দেন না। এই প্রসঙ্গে কথা বললেই আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।’

বুধবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত হিরো আলমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। তাকে এরুলিয়া বাজার এলাকায় বাড়ি ও অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।