হিন্দু শাস্ত্রমতে মৃতদেহ দাহ এবং মুসলিমদের ধর্ম অনুযায়ী মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি বহু প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে৷ এর পিছনে যে বিজ্ঞানসম্মত কারণটি বর্তমান তা হল, সুস্থ শরীরে মৃত্যু খুব কম মানুষেরই হয়৷ বেশিরভাগই নানা রোগে ভুগে মারা যায়৷ সেই মৃতদেহে রোগের জীবাণু সজীব অবস্থায় থাকে৷ একমাত্র মাটি এবং আগুন সেই জীবাণু বিনষ্ট করতে পারে৷ সেই জীবাণুতে যাতে সুস্থরা না আক্রান্ত হয় তাই হিন্দুমতে তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়, এবং মুসলিম মতে তা কবর দেওয়া হয় বা মাটির তলায় চাপা দেওয়া হয়৷

এর পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়টি তো রয়েছেই৷ অনেকে কু-সংস্কার বলে এই বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করলেও এর পিছনে বিজ্ঞানসম্মত কারণটি অনেকেরই জানা নেই৷

পড়ুন: ভাঙা কাঁচ কেন দুর্ভাগ্য ডেকে আনে জানেন?

আবার, মনে করা হয়, হিন্দুদের কাছে আগুনের শিখা ব্রহ্মা স্বরূপ৷ আগুনে মৃতদেহের সৎকারে আত্মাকে মলিন পুরনো দেহ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয় যাতে সে নতুন করে পথ চলা শুরু করতে পারে৷ পাশাপাশি শোনা যায়, বহু প্রাচীনকালে কবরস্থ করার থেকে আগুনে দেহ সৎকার বেশি সহজ ছিল৷ কবর দেওয়ার জন্য জমি নির্দিষ্ট করে তা খনন করতে হত যা সময় স্বাপেক্ষ এবং পরিশ্রমসাধ্য ছিল৷ অন্যদিকে মৃতদেহে অগ্নিসংযোগের জন্য কিছু কাঠ জোগাড় করলেই হয়ে যেতো৷ তবে অনেক ক্ষেত্রেই শিশু বা কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্রে মৃতদেহ মাটির তলায় চাপা দেওয়া হয়ে থাকে৷

অন্যদিকে কবর দেওয়াকে অপেক্ষাকৃত নরম পন্থা হিসেবে মনে করা হয়৷ এবং এও মনে করা হয় যে মানবশরীরের সঙ্গে আল্লাহর যোগ থাকে৷ তাই এই শরীরে অগ্নি সংযোগ অর্থাৎ সর্ব শক্তিমানের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন৷ অন্যদিকে, ভৌগোলিক কারণও এর পিছনে রয়েছে বলে মনে করা হয়, যেখানে কাঠের অভাব হওয়াতেই কবরের রীতি প্রচলিত বলে ধরা হয়৷