লাহোর: ফের পাকিস্তানে হিন্দু মহিলাকে জোর করে বিয়ের আসর থেকে অপহরণ এবং ধর্মান্তকরণের অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, জোর করে বিয়েও দিয়ে দেওয়া হল মুসলিম এক যুবকের সঙ্গে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে। যেখানে সাম্প্রতিক অতীতে হিন্দু মেয়েদের অপহরণ, ধর্মান্তরকরণ এবং বিয়ে দিয়ে দেওয়ার মতোও একাধিক নক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ইমরান খানের দেশে।

সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচি থেকে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার দূরে, সিন্ধু প্রদেশের মাটিয়ারি জেলার হালায় ভারতী বাই নামের বছর ২৪ এর এক মহিলার বিয়ের আসর বসেছিল। জানা গিয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় স্থানীয় কিছু হামলাকারী পুলিশ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ভারতী বাই নামের ওই হিন্দু মহিলাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, পাক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আরও জানা গিয়েছে, ওই যুবতীকে সেই সময় জোর করে ইসলাম ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। এবং একজন মুসলিম পুরুষের সঙ্গে তাঁকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সূত্রের খবর, সিন্ধু প্রদেশের হালা শহরেরই এক হিন্দু ব্যক্তির সঙ্গে ভারতীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের দিনই অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই হামলাকারীরা বিয়ের আসরে হামলা চালিয়ে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই বিষয়ে ভারতী বাইয়ের বাবা কিশোর দাস জানিয়েছেন,
রবিবার দিন যখন তাঁর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল সেই সময় শাহরুখ গুল নামের ওই অপহরণকারী স্থানীয় পুলিশদের সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁর মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে চলে যায়।
এবং পরে, ভারতীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং শাহরুখ গুলের সঙ্গে বিয়ের যাবতীয় প্রমাণপত্র সহ ভারতীর একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেয়।

এদিকে তাঁর ধর্মান্তরের নথিতে বলা হয়েছে, ভারতী ১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। সেই কারণেই, হয়তো তাঁকে বিয়ের আসর থেকে তুলে আনা হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, শংসাপত্র অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের পরে ভারতীর নতুন নাম রাখা হয় ‘বুশরা’। করাচির আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বানুড়ি শহরে অবস্থিত জমিয়ত-উল-উলূম ইসলামিয়া ভারতীর ধর্মান্তরের শংসাপত্র জারি করেছিলেন। এবং তাঁর ধর্মান্তরের বিষয়ে মুফতি আবুবকর সায়েদ উর রহমান নামের এক ব্যক্তি সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্যদান করেন।

যদিও, শাহরুখ গুলের সঙ্গে ওই যুবতীর ঠিক কবে বিয়ে হয়েছিল সেই বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। তবে তাঁর বিয়ের শংসাপত্র অর্থাৎ নিক্কাহ দলিলে দেখা যায়, মুসলিম ব্যক্তিটিও হালা শহরেরই বাসিন্দা। নিসার আহমেদের ছেলে শাহরুখের বয়সও ২৪ বছর বলা হয়েছে প্রমাণপত্রে।

এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই, ভারতী ওরফে বুশরার পরিবার তাঁর ফিরে আসার দাবি জানিয়েছে। ভারতীর পরিবারের দাবি, স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং উপস্থিতিতে শাহরুখ তাদের মেয়েকে অপহরণ করেছিল।

অন্যদিকে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার কমপক্ষে একমাস আগে ভারতী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। যদিও তাঁর অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা ভারতীর ধর্মান্তরের বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন। এবং জোরপূর্বক তাকে একজন মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বিয়েও দিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।

যদিও এদিনের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ভারতীকে জোর করে তুলে আনার বিষয়ে শাহরুখই পুলিশকে একপ্রকার বাধ্য করেছিল। শাহরুখ আরও দাবি করে জানায় যে, ভারতী ওরফে বুশাই তাঁর স্ত্রী। এবং তাঁর বাবা-মা তাকে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে ওই হিন্দু ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলেন।

যদিও পুরো ঘটনার সংবাদে এবং হালার স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এবং অনেকেই ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।