লখনউ: কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে রাস্তার উপর গুলি করে খুন করা হয় রঞ্জিৎ বচ্চন নামে হিন্দু মহাসভা নেতাকে। রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি অন্য কোনও ষড়যন্ত্র, তা ঠিক স্পষ্ট হচ্ছিল না প্রথমে। অবশেষে প্রাথমিক তদন্তের পর ওই হিন্দু নেতার স্ত্রী ও তাঁর বন্ধুকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

হিন্দু নেতার দ্বিতীয় স্ত্রী স্মৃতি শ্রীবাস্তবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সঙ্গে স্মৃতির বন্ধু দীপেন্দ্র ও ড্রাইভার সঞ্জিৎ গৌতমকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আর যে গুলি চালিয়েছিল, তার নাম জিতেন্দ্র।

স্মৃতি পুলিশকে জেরায় জানিয়েছেন, যে তাঁর সঙ্গে রঞ্জিতের ডিভোর্সের মামলা চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। ২০১৬ থেকে চলছে সেই মামলা। কিন্তু আদালতে যেতে চান না রঞ্জিৎ। তাই পিছিয়ে যাচ্ছিল সেই মামলা। দীপেন্দ্রর সঙ্গে বিয়েতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল রঞ্জিৎ বচ্চন।

পুলিশ জানতে পেরেছে দীপেন্দ্রই খুন করার পরামর্শ দিয়েছিল। আর পুরো ষড়যন্ত্রটা করেছিল স্ত্রী স্মৃতি। স্মৃতিকে লখনউ থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর দীপেন্দ্রকে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ঘটনার সম্পর্কে জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতে ২.৩০ মিনিটে দীপেন্দ্র, সঞ্জিৎ আর জিতেন্দ্র রায়বরেলি থেকে বেরোয়। হজরতগঞ্জ, অর্থাৎ যেখানে খুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে দীপেন্দ্রকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আর সিনেমা হলের কাছে নামানো হয় জিতেন্দ্রকে।

ভোর ৫ টা ৪০ মিনিটে প্রাতঃভ্রমণে বেরোয়ে রঞ্জিৎ। তখনই তাঁর মাথা লক্ষ্য করে চলে গুলি।

তিনি হিন্দু মহাসভার নেতা হলেও তিনি ছিলেন সমাজবাদী পার্টির সদস্য। তাঁকে প্রায়ই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা যেত। সমাজবাদী পার্টির তরফ থেকে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের দিকে অভিযোগ তোলা হয়।

৪০ বছর বয়সী রঞ্জিত বচ্চন এবং তাঁর ভাইপো আদিত্য শ্রীবাস্তব দুজনেই দুষ্কৃতীদের আক্রমণের শিকার হন। ওই দুষ্কৃতীরা তাদের ফোন ছিনতাই করার চেষ্টা করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের তরফ থেকে জানা যায় দুষ্কৃতীদের মুখ ঢাকা অবস্থায় ছিল। এই ঘটনার জেরে চারজন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে আগেই।