নয়াদিল্লি: হিন্দি ভাষাকে বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল৷ চাপের মুখে অবশেষে পিছু হঠল নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়ায় পরিবর্তন করা হল৷ ফলে নয়া খসড়ায় বাধ্যতামূলক রইল না হিন্দি৷ ঐচ্ছিক ভাষা হিসেবে হিন্দিকে রাখল কেন্দ্র৷

সম্প্রতি কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতির খসড়া পেশ করেছেন ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসির চেয়ারম্যান তথা ইসরোর প্রাক্তন প্রধান ডঃ কৃষ্ণস্বামী কস্তুরীরঙ্গন। খসড়া প্রস্তাবে বলা সেই হয়েছে, ১৯৬৮ থেকেই বহু স্কুলে ‘থ্রি ল্যাঙ্গুয়েজ ফরমুলা’ চলে আসছে। তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: বিজেপি বিধায়কের মার: মোদী শাসনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন এনসিপি নেত্রীর

অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে স্থানীয় ভাষা, ইংরেজির সঙ্গে হিন্দি শিখতে হবে। হিন্দিভাষী রাজ্যে হিন্দি, ইংরেজির সঙ্গে অন্য কোনও ভারতীয় ভাষা শেখার প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। এই প্রস্তাব আদতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা বলে অনেকের মত৷

নতুন শিক্ষানীতির এই খসড়ার কথা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তপ্ত হয়েছে দক্ষিণ ভারত। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী ও কেরলের কংগ্রেস এমপি শশী তারুর হুমকি দিয়ে বলেছেন, কোনও শক্তি যদি আমাদের ওপরে জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দিতে চায়, ফল ভালো হবে না।

আরও পড়ুন: বেকারত্ব ও আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারের সমালোচনায় শিবসেনা

শনিবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম ও ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিনও একই ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করেছিলেন।এরাজ্যেও সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দি আগ্রাসনের প্রতিবাদ শুরু হয়। ক্ষোভের আঁচ পেয়েই আসরে নামেন বিদেশমন্ত্রী।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর রবিবার টুইট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। নতুন যে শিক্ষানীতির কথা বলা হচ্ছে, তা খসড়া রিপোর্ট মাত্র। সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। খসড়া খতিয়ে দেখার পরই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। জোর করে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। প্রবল চাপে পড়ে সেই কথা রাখল সরকার৷