গুয়াহাটি: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এবার অসমের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যে বিতর্ক ছড়াল। হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মেঘালয় এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা হবে না। এর কারণ হিসেবে অসমের মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই রাজ্যগুলিতে কোনও হিন্দু বাঙালি জনগোষ্ঠী নেই। আর তাই এখন শুধুমাত্র অসম, ত্রিপুরা ও সিকিমকে সিএএ-এর আওতায় আনা হয়েছে।

অসমের অর্থমন্ত্রীর দাবি, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরামের মতো রাজ্যগুলিতে ভারত সরকারের রেকর্ড অনুযায়ী হিন্দু বাঙালির সংখ্যা খুব কমই রয়েছে। আর তাই এই রাজ্যগুলিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন লাগু হলে অকারণে প্রতিবাদ-আন্দোলন মাথাচাড়া দেবে বলে দাবি হিমন্তের। পাশাপাশি এই মুহূর্তে কেন্দ্র-বিরোধী আন্দোলন অযথা মাথাচাড়া দিলে রাজ্যগুলির আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে মনে করেন অসমের অর্থমন্ত্রী।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার আরও দাবি, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরামের মতো রাজ্যগুলি থেকে নাগরিকত্বের জন্য খুব কমই কোনও তৎপরতা চোখে পড়ে। এই বিষয়ক কোনও আবেদনও রাজ্যগুলির তরফে করা হয়নি। মিজোরামে, অরুণাচল প্রদেশের ইনার লাইন পারমিট রয়েছে। একইসঙ্গে শিলং বাদে মেঘালয়ও ষষ্ঠ তফসিলে রয়েছে। কিন্তু ত্রিপুরা, অসম এবং সিকিমে হিন্দু বাঙালিদের জনসংখ্যা বেশি।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে গন্ডগোলের আশঙ্কা আগেই করেছিল কেন্দ্র। আর তাই নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম এবং অরুণাচল প্রদেশের কথা প্রথমে উল্লেখ করা হয়নি। এমনই দাবি হিমন্ত বিশ্বশর্মার। রাজ্যগুলিতে আকারণে আন্দোলন, বিক্ষোভ রুখতেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভাবনা বলে দাবি করেছেন অসমের অর্থমন্ত্রী।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসমে। একটানা বেশ কয়েকদিন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখাতে থাকে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের একাধিক সংগঠন। কেন্দ্র-বিরোধিতায় রাজধানী দিসপুর, জোড়হাট, বঙ্গাইগাঁও-সহ একাধিক এলাকায় পথে নেমে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়েও বিক্ষোভ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম দশা হয় পুলিশের। বাধ্য হয়েই অসমে সেনা মোতায়েন করা হয়। অশান্তি রুখতে জারি করা হয় কার্ফু। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট, কেবল টিভি পরিষেবা। লাগাতার কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলার পর শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয় প্রশাসন।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এখনও কেন্দ্র-বিরোধিতায় সোচ্চার বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল। এই আবহে অসমের বিজেপি সরকারের মন্ত্রীর নাগরিকত্ব আইন নিয়েই এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।