সিমলা: দিল্লির নিজামুদ্দিনের করোনা আক্রান্তদের আচরণ থেকে শিক্ষা। এবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও থুতু ছেটালেই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করবে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ। মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এমনই কড়া পদক্ষেপ করছে হিমাচল পুলিশ।

দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশের জেরেই দেশে লাফিয়ে বেড়েছে মারণ করোনার সংক্রমণ। নিজামুদ্দিনের বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত বর্তমানে একাধিক রাজ্যের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদেরই কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন গাজিয়াবাদের একটি হাসপাতালে।

সেখানে চূড়ান্ত অসভ্যতার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। কখনও চিকিৎসক কখনও নার্সদের গায়ে থুতু ছিটিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ ওঠে। একই অভিযোগ ওঠে কানপুরের একটি হাসপাতালেও। করোনা আক্রান্তদের ওই আচরণের জেরে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিজামুদ্দিন মারকাজ ফেরত করোনা আক্রান্তদের আচরণ থেকেই এবার শিক্ষা নিয়েছে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ। এবার থেকে করোনা আক্রান্ত কেউ থুতু ছেটালেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘খুনের চেষ্টা’র ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে। হিমাচল পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি কারো গায়ে থুতু দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হবে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি কারও গায়ে যদি থুতু ছেটান ও পরে সেই ব্যক্তির মৃত্যু হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হবে। জানা গিয়েছে, হিমাচল প্রদেশ থেকেও বেশ কয়েকজন দিল্লির তবলিঘি জামাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

১৮ মার্চ তাঁরা দিল্লি থেকে বাসে চেপে হিমাচল প্রদেশে ফিরেছিলেন। ওই বাসে ফেরা তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। পরে নিজামুদ্দিন-ফেরত আরও এক ব্যক্তিও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

হিমাচল সরকারের আশঙ্কা বাসে চেপে ফেরার সময় বহু মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন করোনা আক্রান্তরা। তারইজেরে রাজ্যে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সরকারি ওই বাসে থাকা প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এবার গাজিয়াবাদ ও কানপুরে কোয়ারেন্টাইনে থাকা জামাত-ফেরতদের আচরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে খুনের মামলা দায়েরের নির্দেশিকা জারি করেছে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ।