শিলিগুড়ি: শনিবার সন্ধেবেলায় ঘরের মাঠ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গনে ডার্বি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। রাত পর্যন্ত শিলিগুড়ির বুকে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে। রাতের সেই উচ্ছ্বাসের প্রভাব পড়ল সকালের রবিবাসরীয় বাজারেও। ইলিশ-চিংড়ির যুদ্ধে জিতেছে ইলিশ। সকালের বাজারে তাই কদর বাড়ল ইলিশের। এমনিতে ইলিশের কদর সবসময় থাকে। কিন্তু, শনিবার শিলিগুড়ির মাঠে ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের পর শহরের বাজারে বাজারে চাহিদা বাড়ল ইলিশের।

সাধারণত এই সময় ইলিশের একটু দাম চড়াই থাকে। আর সেভাবে স্বাদ ও থাকে না। কিন্তু, রবিবার এই ধরনের ইলিশের জন্যই রবিবার বাজারগুলিতে কাড়াকাড়ি পড়ে গেল। অন্য মাছ , এমনকী মাংস ছেড়ে ভিড় করতে দেখা গেল ইলিশ বিক্রেতাদের কাছে। শহরের সমস্ত বড় বাজারেই মোটামুটি একই ছবি।

এদিন শিলিগুড়ি নিউ সিনেমা রোড বাজারে এক মাছ বিক্রেতা জানালেন, তাঁর কাছে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ মাছ রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের মাছ গুলি বিক্রি করছেন ৯০০ টাকা কিলো দরে। এবং বড় গুলি ১২০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা কিলো দরে। সেই মাছ বিক্রেতা জানালেন শনিবার থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। অন্য দিন যা দাম থাকে তার থেকে ২০০ টাকা বেশিতেই বিক্রিতেই এদিন ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করে নিলেন চাহিদা বেড়েছে দামটাও বেড়েছে।

শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট বাজার, ফুলেশ্বরী বাজার, সুভাষপল্লি বাজারেও অন্য দিনের তুলনায় একটু চড়া দামেই বিকিয়েছে ইলিশ। কোথাও কোথাও ১৫০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে। ইলিশের সামনে ভিড় করে থাকা ক্রেতাদের জিজ্ঞাসা করা হল, এত দাম দিয়ে ইলিশ নেবেন যে? প্রশ্ন শুনেই কেউ কেউ মুচকি হাসলেন। বেশিরভাগ ক্রেতাই জানালেন ডার্বি জয়ের আনন্দটা ইলিশ দিয়ে উপভোগ করার মজাই আলাদা। ফুলেশ্বরীর বাসিন্দা মৃণাল নন্দী ১২০০ টাকা দিয়ে একটি ইলিশ ব্যাগে পুরেই জানালেন। কাল স্টেডিয়ামে বসে বন্ধুদের সঙ্গে ডার্বির লড়াই দেখলাম। প্রিয় দল ইস্টবেঙ্গল জয়ের পরেই ঠিক করে নিয়েছিলাম বন্ধুরা মাইল ইলিশ পার্টি করব। মাঠ থেকে ফেরার পর রাতে মাছ পাইনি। তাই আজ সকাল সকাল বাজারে চলে এলাম ইলিশ নিতে। দুপুরে বাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে ইলিশ পিকনিক করব। বিধান মার্কেট মাছবাজারে ইলিশ কিনতে এসেছিলেন হাকিমপাড়ার বাসিন্দা রণজয় মিত্র। তিনি জানান, বহুদিন পর শিলিগুড়িতে ডার্বি ম্যাচ হল৷ এত দিন কলকাতায় গিয়ে দেখতাম। কাল মাঠে বসে ম্যাচ দেখতে দেখতেই মনস্থির করে নিয়েছিলাম, পছন্দের টিম লাল-হলুদ বাহিনী জিতলেই রবিবার ইলিশের ঝাল খাব। তাই নিয়ে নিলাম।

শুধু বাজারগুলিতেই নয়, ইস্টবেঙ্গল জয়ের পর শনিবার থেকেই শহরের রেস্টুরেন্টগুলিতে ইলিশের খোঁজ শুরু করে দিয়েছিল লাল-হলুদ সমর্থকরা। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম চত্বরে যেসব খাবারের হোটেল ছিল রাতে মেনুতে আগের থেকেই রাখা হয়েছিল ইলিশ। চড়া দাম থাকলেও বহু সমর্থক ইলিশ ঝোল কিনে নেন। ইস্টবেঙ্গলের যেসব সমর্থক দক্ষিণবঙ্গ থেকে এসেছিলেন, তাঁরাই মূলত রাতে খাবারের দোকানগুলিতে ইলিশের খোঁজ করেছিলেন বলে জানালেন শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট, হাকিমপাড়া, হিলকার্ট রোড , কোর্ট মোড় চত্বরে থাকা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা।