রানাঘাট: বুধবার সকালে রানাঘাট সংলগ্ন হিজুলির গাঙ্গুলি বাড়ির পুজোর দালানে হয়ে গেল পাটে সিঁদুর উপলক্ষে পুজো। কাঠের পাটাতনের উপর পড়ল সিঁদুরের প্রলেপ। এই বাঁশ কাঠের পাটাতনের উপর এবার তৈরি হবে দুর্গা প্রতিমা। পারিবারিক প্রথা মেনে নন্দ উৎসবের দিন অর্থাৎ জন্মাষ্টমীর পরের দিন কুলো পুরোহিত‌ পুজোয় বসলেন। বেজে উঠলো মঙ্গল ঘন্টা শঙ্খের ধ্বনি। গাঙ্গুলিদের বাড়ির এবারের দুর্গাপুজোর সূচনা হলো।

পারিবারিক এই পুজোয় এখনও আটচালার ঠাকুর হয়৷ দশমীতে বিসর্জন৷ চূর্ণী নদীতে গাঙ্গুলিদের দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় ধ্বনি ওঠে – আসছে বছর আবার এসো মা৷ তারপর সেই ভেসে যাওয়া প্রতিমায় থাকা ওই পাটাতন কেটে আলাদা করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পালা৷

কারণ ওই পাটাতনের উপরই আবার যে আসছে বছর প্রতিমা গড়ে উঠবে – মা দুর্গা আসবেন ছেলেমেয়েদের নিয়ে৷ আর তারই জন্য নন্দ উৎসবের দিন গাঙ্গুলি বাড়ির পুজোর দালানে পরিবারের কুল পুরোহিতকে বসতে হয় পাটে সিঁদুর উপলক্ষ্যে পুজোয়৷ তারপর চলে মূর্তি গড়ার কাজ৷

এখন এই এত বড় বাড়িতে দু তিন শরিকের বাস। তারাই আজকে ছিলেন বাড়িতে। কর্মসূত্রে অন্য শরিকরা অন্যত্র বাস করে।কিন্তু পুজোর দিনে মা দুর্গার টানে অন্যান্য শরিক এবং আত্মীয়রা চলে আসেন এই বাড়িতে।বহু বছর আগেই শতবর্ষ পার হওয়া হিজুলির গাঙ্গুলি বাড়ি গমগম করে পুজোর দিনগুলো। কিন্তু এবার করোনাএবং লকডাউনের জেরে দুশ্চিন্তা গাঙ্গুলি বাড়ির সদস্যদের।এই অনিশ্চিত সময়ে সামাজিক গুরুত্ব বজায় রেখে অন্তত নিয়ম রক্ষা করে এবারে মতো পুজোটা সারতে চান তারা।

যদিও রাশিয়ায় ভ্যাকসিন আবিষ্কারের খবরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন এই পরিবারের সদস্যরা। পুজো তো এখনও দু’মাসের বেশি দেরি। যদি তারমধ্যে সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। যদি ট্রেন চলে। যদি প্রতিবারের মতোই বাড়িতে সকলে আসতে পারে তাহলে তো কথাই নেই। এই আশা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে গাঙ্গুলি বাড়ির লোকেরা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও