পাটনা : দীর্ঘ জল্পনা, যাবতীয় এক্সিট পোলকে ভুল প্রমাণ করে বিহারের মানুষ ক্ষমতায় রেখেছে এনডিএ-কে। আর বিহারে মুখ্যমন্ত্রী পোড়খাওয়া অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নীতিশ কুমার।

তবে হাইভোল্টেজ বিহার ভোটের ফল যাই হোক না কেন, সেদিকে খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই আমজনতার। যদিও বিহার নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে নেটিজনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একজনই। আর তিনি হলেন সিপিআইএমএল-এর বিধায়ক মেহবুব আলম৷

আর এই মেহবুব আলমকে নিয়ে চর্চার আরও একটি কারণ রয়েছে, বিহারে এবার সবথেকে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন তিনি৷ কাটিহারের বলরামপুর কেন্দ্র থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পেয়েছেন মেহবুব আলম৷ এর থেকেই বোঝা যায়, নিজের এলাকায় কতখানি জনপ্রিয় এই বিধায়ক৷ এই নিয়ে টানা চার বার জিতলেন তিনি৷

যদিও বিহার নির্বাচনে চার বারের বিজয়ী এই বাম বিধায়ক অন্যদের থেকে একটু বেশিই ব্যাতিক্রমী। কারণটা শুনলে গালে হাত দিতে বাধ্য হবেন আপনি।

৪৪ বছর বয়সী এই পোড় খাওয়া বিধায়কের বাড়ি বিহারের বলরামপুরের শিবাপুর গ্রামে। আলমের বাড়ি যেতে হলে পাকা রাস্তা পেরিয়ে মাটির রাস্তার পথ ধরতে হবে। আর রাস্তাটা এতটাই সরু যে সেখান দিয়ে একটা চারচাকা গাড়িই ঠিকমতো ঢুকতে এবং বেরোতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

তবে এই গ্রামেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা আলমের। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও তাঁর ৪ এবং ৯ বছরের দুটি সন্তানও রয়েছেন। চাষাবাদ করেই সংসার চালান তিনি। এমনকি এমএলএ হয়েও সন্তানদের বেসরকারি নয়,সরকারী স্কুলেই পড়তে পাঠিয়েছেন। চার-চারবারের বিধায়ক হয়েও জমিজমা সম্পত্তি, গাড়ি তো দূরে থাক, নিজেদের ভালো থাকার জন্য একটা পাকা বাড়িও পর্যন্ত গড়েননি এই বিধায়ক। নিজের ইট আর বেড়ার দরমা দেওয়া কাঁচা বাড়ি থেকেই ভোটে লড়ে আসছেন তিনি। আর ঠিক এই কারণে এখন গোটা দেশের কাছে চর্চার মূল বিষয়ই হল মেহবুব আলম।

পাকা বাড়ি যখন করতে পারেননি, তখন গাড়িও যে নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ কোথাও যেতে হলে পায়ে হেঁটে অথবা বাস, ট্রেন, অটোতেই যান মেহবুব আলম৷ বিহার বিধানসভায় এবার যে বিধায়করা নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ৮১ শতাংশই কোটিপতি।তার মধ্যে মেহবুব আলম সত্যিই ব্যতিক্রম৷

জানা গিয়েছে, নির্বাচনী হলফনামায় মেহবুব আলম তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ৩০,০০০ টাকা রয়েছে। এছাড়াও তাঁর বাড়ি এবং চাষের জমি দিয়ে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯ লক্ষ টাকা। বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও কোনও গাড়ি ব্যবহার করেন না তিনি।

শুধু তাই নয়, সিপিআই’য়ের এই বিধায়ক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি খুবই সাধারণভাবে জীবন যাপন করার চেষ্টা করেন। এটি কমিউনিজম নয়, এটা আদর্শবাদ। তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে এমন লোকজন আছেন যাদের দুবেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ায় কঠিন। সেখানে তিনি মনে করেন না যে বিধায়ক হিসেবে বিলাসিতায় জীবন কাটানোর দরকার আছে?

আলম আরও বলেন, “তাঁর এই জয়ের জন্য প্রচারে কমরেডরা অনেক সহায়তা করেছেন। সমস্ত বাম ক্যাডারের মতো, তিনি বেতন হিসাবে যা অর্জন করেন এবং এমএলএ-র কাছ থেকে প্রায় ৮০,০০০ টাকার অধিক আদায় করেন তার বেশিরভাগই দলের ফান্ডে যায়।

এ বছর মহাজোটে সামিল হয়ে লড়ে বিহারে অপ্রত্যাশিত ভালো ফল করেছে বামেরা৷ ২৯টি আসনে লড়ে ১৬টিতে জিতেছে তারা৷ তার মধ্যেও সবথেকে বেশি চর্চায় রয়েছেন মেহবুব আলমই৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।