কলকাতা: বিশ্বভারতীর জমি কাঁটার দিয়ে ঘিরতে হবে। এমনটাই নির্দেস দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

আদালতের অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তিতে কোনও নির্মাণ সংক্রান্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ হস্তক্ষেপ করেছে এই বিষয়ে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলার দায়িত্ব নিয়েছে হাইকোর্ট| সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দোপাধ্যায়।

ইতিমধ্যেই সংসদে ‘জিরো আওয়ারে’ বিশ্বভারতীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। একই সঙ্গে পৌষমেলার দায়িত্বও কেন্দ্রকে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বিজেপি সাংসদের এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিজেপি।

বুধবার রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গড়া বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় আজ বিপন্ন। সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেখানে অশান্তি তৈরি করছে।

বিশ্বভারতীর নিরাপত্তার জন্য সেখানে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হোক। বিজেপি সাংসদ যখন রাজ্যসভায় তাঁর দাবি জানাচ্ছিলেন, তখন এ ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল সদস্যরা।

তাঁদের দাবি, শান্তিনিকেতনে যা হয়েছে তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ব্যাপার। রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারে পরে। এটা সংসদে আলোচনার বিষয় নয়। বিশ্বভারতী কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তিনি লেখেন, “এই প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতা, হুলিগান ও প্রশাসকদের আচরণ জানলে বিশ্বকবি বোধ হয় জীবন রাখত না। সৌন্দর্য রক্ষার নামে ওই হুলিয়ানদের পাশে দাঁড়ালেন তাতে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে আমার আর মুখ দেখাবার উপায় নেই।”

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজ করালেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের একাংশ পে-লোডার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে দেন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।