স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ১৪ মে আদৌ রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোট হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার জট আরও ঘন হল৷ আজ, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলাটির শুনানি ছিল৷

আদালত সূত্রের খবর, যেহেতু মামলাটি বর্তমানে ডিভিশন বেঞ্চের অধীনে রয়েছে, তাই এদিন এই মামলার শুনানি শুনতেই চাননি প্রধান বিচারপতি৷ প্রধান বিচারপতির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরই এবিষয়ে শুনানি শুনবেন তিনি৷ এজন্য শুনানির পরবর্তী দিন হিসেবে ৮ মে, মঙ্গলবার ধার্য করা হয়েছে৷

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে আবমাননার অভিযোগ এনে বিরোধীরা একযোগে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাসে মামলা করেছিল৷ ওই মামলায় কমিশন ও রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সিঙ্গল বেঞ্চের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে কি না সেবিষয়ে আগে প্রধান বিচারপতির এজলাসে রিপোর্ট জমা দিতে হবে৷ একই সঙ্গে ১৪ মে পঞ্চায়েত ভোট হবে কি না, এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি মামলাটিকে ডিভিশন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন৷

পঞ্চায়েত আইন না মেনেই ভোট ঘোষণা করা হয়েছে, এই অভিযোগে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিল কংগ্রেস৷ আজ রয়েছে সেই মামলার শুনানি৷ অন্যদিকে ডিজিট্যাল যুগে অন লাইনে মনোনয়ন নয় কেন, সেই প্রশ্ন তুলে মামলা হয়েছে ডিভিশন বেঞ্চে৷ ওই মামলার শুনানি হবে সোমবার৷ আদালত সূত্রের খবর, ওই দুটি মামলার শুনানির আগে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ প্রধান বিচারপতি৷ আইনজীবীদের কথায়, প্রধান বিচারপতি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন৷ কারণ, আজ এবিষয়ে তিনি যদি চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন, তাহলে ওই দুটি মামলার আর কোনও গুরুত্বই থাকত না৷

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবারে পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে, রক্ত ঝরেছে, প্রাণ হানির ঘটনাও ঘটেছে৷ এমনকি নজিরবিহীনভাবে এবারের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় শাসকদল জয়ী হয়ে রেকর্ড গড়েছে, তাতে শাসকের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সন্ত্রাসের অভিযোগ জোরালো হয়েছে৷ স্বভাবতই, এক দফায় ভোট করার পক্ষপাতী হবে না আদালত৷ কারণ, রাজ্যের মোট বুথের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৪৬৭৷ আর লাঠিধারী, বন্দুক ধারী মিলিয়ে রাজ্য পুলিশের সংখ্যা সাকুল্য ৫৮ হাজার৷

পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট এক দফায় ভোট হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা অসম্ভব৷ ওই মহল আরও মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রথমে কমিশনই জানিয়েছিল- তাঁরা তিন দফায় ভোট করতে চান৷ কিন্তু রাজ্য ১৪ মে এক দফায় ভোট করতে চেয়ে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর কমিশন যেভাবে সেটি মেনে নিয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ আদালত৷ স্বভাবতই, ১৪ মে পঞ্চায়েত ভোট আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল৷ আপাতত, মঙ্গলবারের দিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতির কারবারিরা৷