file pic

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি চলছেই। একদল টেনে ফেলে দেয় তো আরেক দল তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে সামলাতে পারে না। তাঁদের বাড়ি ফেরার পর দেশের করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। অনেকে কোনও নিয়ম মানছেন না, এমন অভিযোগ উঠছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিয়েও চিন্তায় স্থানীয় মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে একটু অন্যরকম ভাবলেন গ্রামীণ হাওড়ার স্কুল।

হাইস্কুলকে করতে দিলেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। হাওড়া ডোমজুড় জয়চন্ডীতলায় পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরেছেন। তাদের জন্যে জয়চন্ডীতলার হাইস্কুলকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার এর অনুমতি দিলেন জয়চন্ডীতলা স্কুল পরিচালন সমিতি, সাথে সহযোগিতা করেন এলাকার স্বাস্থ্য কর্মীরা ও পঞ্চায়েত সদস্যরা।

বিশেষ ভাবে সহায়তা করেন স্কুল পরিচালন সমিতি সম্পাদক মাননীয় বিশ্বনাথ পাড়ুই ও বাকি সদস্যবৃন্দ সুদীপ পন্ডিত, চিত্তপ্রিয় বন্দোপাধ্যায় ও সুশান্ত পাড়ুই। সাথে সহযোগিতা করেন পঞ্চায়েত প্রধান লক্ষীকান্ত দাস, উপপ্রধান তড়িত দেব, সদস্যবৃন্দ ফাল্গুনী বন্দোপাধ্যায়, লক্ষী পাড়ুই ও দুধকুমার প্রামাণিক। এছাড়াও পাশে থাকেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবীবৃন্দ শিবাজী পাড়ুই, প্রভাশ পাড়ুই, দেবদূত কর্মকার, দেবীপ্রসাদ দাস, রাধাকান্ত পাড়ুই ,অমিও পাড়ুই প্রভৃতি ব্যক্তিগন।

বিশেষ উদ্যোগকে সফল করতে লেগে পড়েছিলেন এলাকার জনপ্রিয় সমাজসেবী চিত্তপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিডিও, আইসি সকলের সুচিন্তিত মতামত ও এলাকার বিভিন্ন সংগঠন এর মতামত নিয়ে এই গুরু দায়িত্ব মাথায় তুলে নেন।

চিত্তপ্রিয় বাবু বলেন, ‘আমার ভাবনা ছিল এবং জানতাম এই কাজটা করা যেতে পারে, কারণ ওই স্কুলে সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। আমি চেয়েছিলাম আলোচনা করে সবার সুচিন্তিত মতামত নিয়েই এলাকায় কিছু করার। কারন আগামী দিন জয়চন্ডীতলা স্কুল খোলার পরে যতই স্যনিটাইজ হোক, তার পর ও যদি স্কুলের কোন শিশু করোনা আক্রান্ত হয়, তার দায় কে নেবে? ফ্রান্সে ও ইতালিতে এই রকম ঘটনা প্রায় ই ঘটে চলেছে। তাই আমি বলেছিলাম সকলের সুচিন্তিত মতামত নিয়েই এগোনা হোক ও আমি তাই করেছি। আমি সর্বদা মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই ও সেটাই করছি।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘জয়চন্ডীতলার পরিযায়ী ভাইরা আমার নিজের লোক, এই দুর্দিনে তাদের পাশে আমাদের সকলকেই দাঁড়াতে হবে। আমি রাতারাতি সকল গ্রামবাসী ও প্রশাসনকে এক ছাতার নিচে আনতে পেরেছি ও একটা সমাধান সূত্র বেরিয়েছে, তার জন্য আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এই গুরু ভার যে সকলে আমার কাধে তুলে দিয়ে ভরসা করেছেন ,তার জন্যে এলাকার সকল মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাই ও তাদের কাছে আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। আমি আগামী দিন এই ভাবেই মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’

উল্লেখ্য এই মহৎ কাজে চিত্তপ্রিয় বাবু কে পাশ থেকে সহায়তা করছেন এলাকার বিভিন্ন সংগঠন যেমন তরুন সঙ্ঘ, যুব সঙ্ঘ, আর্জিপার্টি ক্লাব, নিউ ইয়ং স্টার ক্লাব, সুহৃদ সঙ্ঘ, শান্তি সঙ্ঘ, ২৬ শে পৌষ উৎসব কমিটি, জয়চন্ডী উৎসব কমিটি প্রভৃতি আরো অনেক এলাকার সংগঠন।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব