সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : ডিম ছুঁলেই তাত লাগছে হাতে। মার্কেটে এখন ডিমের অবস্থা এমনই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিম বেশি চলে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে। ফলত রাজ্যে চাহিদা অনুযায়ী ডিম মিলছে না। বেড়ে যাচ্ছে ডিমের। আগামী মাস দুই তিনেক ডিমের এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃষ্টির বাজারে খিচুড়ি আর ডিম ভাজা। মাছ প্রিয় বাঙালির কাছে ডিম খাওয়ার আদর্শ সময়। শীতের রবিবাসরীয় দুপুরে এর মতো সস্তার বনভোজনও হয় না এ কথা অস্বীকার করা মুশকিল। কিন্তু বৃষ্টি বাদলা এবং শীত, এই জোড়া মরসুমে একদিকে হাতে ছাতা অপরদিকে গায়ে সোয়েটার দিয়ে ডিম কিনতে গিয়ে হাতে ছেঁকা লাগতেই পারে। কারণ চাহিদা অনুযায়ী ডিম দিতেই পারছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কলকাতার পাইকারি থেকে খুচরো সমস্ত ডিমের বাজারে ডিমের দাম বেড়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

পড়ুন: সুখবর: ‘Ujjwala LPG’ স্কিম নিয়ে মোদী সরকারের বড়সড় ঘোষণা

শিয়ালদহ ডিম ব্যবসায়ী সমিতির প্রেসিডেন্ট কাজল দত্ত বলেন , “ডিমের গাড়ি তিন ভাগের এক ভাগ আসছে। চাহিদা রয়েছে, জিনিস দিতে পারছি না। ফলে পাইকারি বাজারেই ১০০টি ডিমের দাম ৪৭০ টাকা হয়ে গিয়েছে। এটা আজকের পাইকারি দর। এটা খুচরো বাজারে ৬ টাকা হবেই। কারণ ২৫ পয়সা বা ৫০ পয়সার উঠে গিয়েছে। ফলে এটা রাউন্ড ফিগারে যাবেই।” তিনি এও জানিয়েছেন, “শীতের পুরো সময়টাই কলকাতার বাজারে ডিম কম আসবে। তাই ডিমের দাম আরও বাড়লেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।” প্রতি বছরই শীতকালে ডিমের দাম বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছে ব্যবসায়ী মহল।

পড়ুন: সুখবর ! বিয়ের মরসুমে এক ধাপে অনেকটা কমল সোনার দাম

কিন্তু ডিম আসছে না বা প্রতি বছর শীতে ডিমের সাপ্লাই না থাকার কারণ কি? কাজলবাবু বলেন, “উত্তরপ্রদেশ, বিহারে এই সময়ে ব্যাপক ঠাণ্ডা থাকে। ডিম শরীর গরম রাখে। তাই ওইসব রাজ্যে অন্ধ্র থেকে ট্রাক বেশি যায়। আমাদের এখানে ১৫টা গাড়ির জায়গায় এখন আসছে ১০টা গাড়ি। ৫ গাড়ি ডিম আসছে না। তো এখানেও শীত জাঁকিয়ে পড়লে ডিমের চাহিদা বাড়বে। তখন গাড়ি কম আসলেই স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যাবে। পাশাপাশি সামনেই বড় দিন। কেক তৈরি করতে প্রচুর ডিম লাগে। এবার সাপ্লাইটা দেবো কিভাবে?।”

পড়ুন: ৪১,০০০কোটির বড়সড় প্রোজেক্ট নিয়ে আসছেন মোদী

এনইসিসির সূত্রে জানা যাচ্ছে গত ১৭ দিনে কলকাতায় ডিমের দাম ৪৩৫ টাকা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে এখন ৪৭০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। তাহলে ডিম নিয়ে ড্রিম! কম দেখাই পকেটের পক্ষে ভালো।