ছবি- প্রতীকি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : ছক কষে গয়নার কারখানা থেকে ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের নেকলেস চুরি। পুলিশ তদন্তে নেমে গ্রেফতার করেছে মূল চাঁইকে। গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড।

লালবাজার সূত্রে খবর, রীতিমতো ছক কষে গয়নার কারখানায় কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল একজনকে। আন্তঃরাজ্য গয়না পাচার চক্রের এক পান্ডা ছিল গোটা পরিকল্পনার মূলে। সুযোগ মিলতেই ৯৭টি হিরে দিয়ে তৈরি একটি নেকলেস নিয়ে চম্পট দেয় সেই কর্মচারী। অবশেষে এই ঘটনার মূল চক্রীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড। মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে সেই নেকলেসও।

গত ২৩ অগস্ট গিরিশ পার্ক থানায় অভিযোগটি জমা পড়ে। গিরিশ পার্কের সরকার লেনের এক গয়না কারখানার মালিক প্রশান্ত মাল পুলিশকে জানান, তাঁর কারখানা থেকে একটি বহুমূল্য সোনার নেকলেস চুরি হয়ে গিয়েছে। নেকলেসে বসানো ছিল ৯৭টি হিরে। যার বাজারদর ৫০ লক্ষ টাকা। নেকলেসের সঙ্গে বেপাত্তা কারখানার এক কর্মীও। নাম শাকিল হুসেন। কয়েকদিন আগেই এই কারখানায় গয়নার মিস্ত্রি হিসেবে যোগ দিয়েছিল শাকিল।

তারপরই ওই কেসের তদন্তভার গ্রহণ করে কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড। প্রশান্ত মালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পারেন, শাকিল সম্পর্কে কোনও বিস্তারিত তথ্যই তাঁর কাছে ছিল না। গয়নার কাজ জানা একজন দক্ষ কারিগর খুঁজছিলেন তিনি। শাকিলের ভাই পরিচয় দিয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি শাকিলকে এই কাজে নিয়োগের অনুরোধ জানায়। চুরির ছক কষেই যে শাকিলকে নিয়োগ করা হচ্ছে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি প্রশান্ত।

একটি নামি গয়না প্রস্তুতকারি সংস্থা প্রশান্ত মালকে ৯৭টি হিরে দিয়ে এক বহুমূল্য নেকলেস তৈরির বরাত দেয়। নেকলেস বানানোর কাজও প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। হঠাৎই গত ২২ অগস্ট কারখানা থেকে খোয়া যায় সেই নেকলেস।

এই নেকলেস যে শাকিলই চুরি করেছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেছিল তদন্তকারী অফিসারদের কাছে। কিন্তু ঘটনার গতিপ্রকৃতি থেকে বোঝা যাচ্ছিল, শাকিল একা এই কাজে জড়িত নয়। এর পেছনে থাকতে পারে বড় কোনও চক্র।

শাকিল সম্পর্কে তেমন কোনও তথ্যই দিতে পারেননি কারখানার অন্যান্য কর্মচারীরাও। শুধু তার মোবাইল নম্বরটি হাতে আসে তদন্তকারী অফিসারদের। সঙ্গে শাকিলের সেই অজ্ঞাতপরিচয় ভাইয়ের মোবাইল নম্বরটিও মেলে। শুরু হয় প্রযুক্তি প্রহরা। চিহ্নিত করা হয় মান্নান শেখ নামের মুম্বইনিবাসী এক হিরের ব্রোকারকে। তদন্তকারী অফিসারেরা নিশ্চিত ছিলেন, এই ঘটনার মূল চক্রী মান্নানই।

তদন্তে জানা যায়, মান্নান আকাশপথে আসছে কলকাতায়। সেই মতো, ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে যায় অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের বিশেষ টিম। বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করা হয় হিরের ব্রোকার মান্নান শেখকে।

মান্নানকে জেরার পর এই ঘটনার গোটা চিত্রনাট্যটি স্পষ্ট হয় তদন্তকারী অফিসারদের কাছে। সে জানায়, তার নির্দেশেই শাকিল ওই কারখানায় চাকরি নিয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, কারখানায় কোনও বড় অর্ডার এলেই তা জানাতে হবে মান্নানকে। তারপর সুযোগ পেলেই হাতিয়ে নিতে হবে সেই গয়না। পরিকল্পনামাফিক সেই নেকলেস নিয়ে চম্পট দিয়েছিল শাকিল। তারপর মান্নানের কথামতোই লুকিয়ে রেখেছিল নেকলেস।

মান্নানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হুগলির গুপ্তিপাড়ায় তার বাড়িতে তল্লাশি চালান অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের তদন্তকারী অফিসারেরা। তার ঘরের ভিতর প্রায় তিন ফুট মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় সেই সোনার নেকলেস। গুপ্তিপাড়ার বাসিন্দা মান্নান ব্যবসার সূত্রে থাকত মুম্বই। এই একই কায়দায় এর আগেও অন্যান্য রাজ্য থেকে গয়না চুরি করেছে সে। এখনও জেরা চলছে তার। খোঁজ চলছে পলাতক শাকিলেরও।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ