কলকাতা: রথযাত্রা নিয়ে বিজেপির করা মামলায় নবান্নের কোর্টেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ঠেলেছে হাইকোর্ট৷ এতেই নৈতিক জয় দেখছে গেরুয়া শিবির৷ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে হাইকোর্টের নির্দেশেই প্রায় স্পষ্ট রথযাত্রা হবে, তবে তা কিছুটা পিছিয়ে গেল৷ হাইকোর্টের রায়ে তাদের তোলা অভিযোগ মান্যতা পেল বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের৷

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর নবান্নের শীর্ষ আধিকারীকদের আগামী বুধবার বসতে হবে বিজেপির তিন নেতার সঙ্গে৷ ফলে চারবারের চিঠিতে যারা জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি তারাই কোর্টের নির্দেশে গেরিুয়া বাহিনীর সঙ্গে বসবে আলোচনায়৷ এতে যারপরনাই খুশি অমিত শাহ থেকে দিলীপ ঘোষরা৷ একে গণতন্ত্রের জয় বলেই দেখছে বিজেপি শিবির৷

আইন শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার বিজেপির রথযাত্রা কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি সিঙ্গল বেঞ্চ। রায়ে বলা হয় আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের কোথাও রথযাত্রা বার করা যাবে না। এবিষয়ে রাজ্যেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রথযাত্রার অনুমতি চেয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে বিজেপি।

আরও পড়ুন: রথযাত্রার সিদ্ধান্তের দায়িত্বভার রাজ্যের কোর্টে ঠেলল আদালত

এদিন শুনানি শেষে হাইকোর্টে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানায়, সরাসরি রথযাত্রার অনুমতি নয় তবে হওয়ার মতো পরিস্থিতি আচে কিনা তা দেখতে হবে৷ ১২ই ডিসেম্বর স্বরাষ্ট সচিব, মুখ্য সচিবকে বিজেপির শীর্ষ তিন নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসতে হবে৷ বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্ব তথা আদালতকে জানাবে রাজ্য সরকার৷ আগামী সপ্তাহে বুধবার পর্যন্ত কোনও সভা হবে না বলেও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি।

আরও পড়ুন: বিজেপির প্রতিবাদে মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, উত্তপ্ত বীজপুর

শুনানির প্রথম পর্বে বিজেপির আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র সভা করার জন্য রাজ্যকে চার বার চিঠি দেওয়া কথা জানান৷ অভিযোগ করেন রাজ্য বিজেপির দেওয়া চিঠির কোনও জবাব দেয়নি৷ সেই চিঠির বয়ান অনুমতি চেয়ে, নাকি প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য তা স্পষ্ট নয় বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সমাদ্দার৷

এরপরই পরিস্থিতি অন্যরকম হয়৷ চিঠি আগে পেলেও কেন তার উত্তর এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা৷ কড়া সুরে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বিচারপতিরা বলেন, ‘‘পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নিন, রঙ দেখে বিচার করবেন না। আপনারা অনুমতির ক্ষেত্রে খেলোয়াড় কে তা দেখেননি, উলটে দেখেছেন খেলোয়াড়ের জার্সির রং৷ ব্যক্তি মানুষের অধিকারের উপর ইনজংশন জারির চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার৷ যা কাম্য নয়৷’’

রাজ্যকে এই ভর্ৎসনা, রায়ের প্রথমে বৃহস্পতিবারের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে সংশোধন, দ্বিতীয় পর্বে নবান্নের শীর্ষ আধিকারীকদের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বসতে বলার নির্দেশ৷ বিচারেই এই তিন ভিত্তিতেই গেরুয়া বাহিনী মনে করছে এদিন আদালতের রায়ে তাদের নৈতিক জয়৷

3 COMMENTS

  1. দিদি সারদার টাকা টা দীলে খুব উপকার হতো মানুষ এর জাভাবে আছোলা দীলেন সেকি আর বলবো

Comments are closed.