স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: স্কুলে শিশুদের যৌণ হেনস্থা রুখতে কড়া নির্দেশিরকা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট৷ রাজ্যস্তরে নোডাল বডি তৈরির জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া৷ প্রতিটা স্কুলে কমিটি গঠন করে কাউন্সিলার নিযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়৷

হাইকোর্টের নির্দেশ, সরকার গঠিত কমিটিতে থাকবেন হেডমাস্টার, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা, দু’জন অভিভাবক ও বিশিষ্টজনেরা। স্কুলের মধ্যে শিশুর যৌণ নিগ্রহের অভিযোগ উঠলে প্রথমে কমিটিকে জানাতে হবে৷

আরও পড়ুন: কলেজে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, গ্রেফতার ক্লার্ক

স্কুল পাঠক্রমে এবার থেকে শিশুদের সচেতন করারও পরামর্শ দেওয়া হয়৷ ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচে’র বিষয় পডুয়াদের শিক্ষা দিতে হবে৷ কমিটি সেই বিষয়ে নজরদারি চালাবে৷ স্কুলে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও তার অতীত খতিয়ে দেখা হবে৷

এদিন মামলা চলাকালীন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অভ্রতোষ মজুমদার কাউন্সিলর নিযুক্তির বিষয়ে আপত্তি জানান৷ সরকারের তরফে তাঁর যুক্তি. ‘‘গাইডলাইন মানতে রাজ্য সরকার রাজি৷ কিন্তু কাউন্সিলর নিযুক্তির বিষয় নামা অসম্ভব৷ কারণ, রাজ্যে এক লক্ষেরও বেশি স্কুল রয়েছে। এক্ষেত্রে লক্ষাধিক প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত কাউন্সিলর নিয়ুক্ত করতে হবে।’’ রাজ্যের পরিকাঠামো নেই বলে দাবি করেন তিনি৷

বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া সরকারি কৌশলীর সওয়ালের শেষে বলেন, ‘‘কাউন্সিলর নিযুক্ত করতে হবে৷
সমস্যা বোঝা যাচ্ছে৷ অসুবিধা হলে প্রয়োজনে ক্রমান্বয়ে এক বছরের মধ্যে কাউন্সিলর নিয়োগের কাজ শেষ করতে হবে।’’ছয় মাস পর হাইকোর্টে সমীক্ষা করে দেখবে এদিনের নির্দেশিকা কতটা রুপায়ণ হল।

আরও পড়ুন: অক্সিজেনেই বাঁচে পাক অর্থনীতি, তারা দেখবে কাশ্মীরকে? কটাক্ষ শিবসেনার

গত বছর জিডি বিড়লায় শিশুকে যৌণ হেনস্থার ঘটনায় উত্তাল হয় শহর৷ অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় এর আগে আদালত বান্ধব নিযুক্ত করে আদলত৷ আদলত বান্ধব ফিরোজ এডুলজিকে বিভিন্ন স্কুলের নিরাপত্তা পরিদর্শনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট৷

ইতিমধ্যেই রাজ্য স্কুলে শিশুদের যৌণ হেনস্থা রুখতে পদক্ষেপ করে৷ আনা হয় কড়া গাইড লাইন৷ রাজ্যের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন বিচারপতি৷ মনে করিয়ে দেন আইন রূপায়ণে সরকারি আধিকারীকদের উদ্যোগী হওয়ার বিষয়টি৷ গত বৃস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া বলেন, ‘‘শিশুদের নিরাপত্তাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷ এবিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের একযোগে কাজ করা উচিত৷’’ এর পর এদিনই ছিল মামলার শুনানি৷