কলকাতা: শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দেহের ময়নাতদন্ত করতে হবে তার পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে করতে হবে বলে নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে কেন চিকিৎসা পরিষেবা পেলেন না ইছাপুরের এই যুবক।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে প্রৌঢ় বাবা-মা নিরুপায় হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মঙ্গলবার সকালে। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশিকা জারি করেছিলেন প্রধান বিচারপতি টিভি রাধাকৃষ্ণাণ।

প্রধান বিচারপতির কাছে এমন এক পরিবার আবেদন করলেন যারা নিজেদের শেষ সম্বল প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে ছেন। আজ তারা পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিচারের সুবিচারের আশায়। ছেলেকে শেষ বারের জন্য দেখবেন বলে আদালতের পর্যন্ত দ্বারস্থ হন শুভজিতের বাবা মা।

মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী সারা রাজ্যের মানুষ । বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারি হাসপাতাল ছেলের চিকিৎসার জন্য হন্যে হয়ে ঘুড়ে বেড়াতে হয়েছিল। শেষ রক্ষা করতে পারেননি অসহায় বাবা-মা ।কিন্তু আশা ছাড়েননি। একটার পর একটা হাসপাতালে সকাল থেকে ঘুরে বেরিয়েছেন। অবশেষে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিল ছেলে। কিন্তু যুবককে আর বাঁচানো যায়নি।

ছেলের মৃত্যুর পর চোয়াল শক্ত করে ছেলের দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতেও জল ঢেলে দিয়ে দেয় করোনা মহামারী। ছেলের দেহ কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে হাতেই পাননি তাঁরা। কী কারণে ছেলের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় তাঁরা।

শেষমেশ শুভ্রজিতের বাবা-মা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কেন তাঁদের ছেলের মৃতদেহ তুলে দেওয়া হচ্ছে না জানতে চান প্রৌঢ় বাবা-মা।  আদৌ কি তাঁদের সন্তান করোনা পজিটিভ ছিলেন? সেটাও জানতে চান বাবা-মা। সদ্য সন্তান হারানো বাবা-মায়ের আবেদনে সাড়া দিয়েছে আদালত। শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দেহের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ