ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হাইকোর্টে ধাক্কা বামেদের৷ বহিরাগতকে মেয়র পদে বসানোর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন সিপিআইএম কাউন্সিলর বিলকিস বেগম শুক্রবার সেই মামলা খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ইতিমধ্যেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷ এরপর মেয়র পদে থাকায় তাঁর আর কোনও আইনি জটিলতা থাকলো না৷

মামলার বয়ান অনুযায়ী মেয়র পদে ববি হাকিমের নাম প্রস্তাব করায় কলকাতা হাইকোর্টে বিধানসভায় পাস হওয়া সংশোধনী আইনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন সিপিআইএমের কাউন্সিলর বিলকিস বেগম সেই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে মামলা চলাকালীন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সংশোধিত আইনে পক্ষেই সওয়াল করেন আদালতে।

উল্লেখ্য শোভন চট্টোপাধ্যায় কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই রাজ্য সরকার বিধানসভা অধিবেশনে তড়িঘড়ি ১৯৮০ সালের কলকাতা পুরসভা আইনে সংশোধনী আনে। সংশোধনী আইন অনুযায়ী, বাইরের কেউ পুর প্রতিনিধি না হলেও এবার থেকে মেয়র হওয়া সম্ভব৷ তবে তাঁকে ৬ মাসের মধ্যে পুরসভার যেকোনো ওয়ার্ড থেকে সদস্য হতে হবে।

সংশোধনী আইনকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা পুরসভার ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর বিলকিস বেগম হাইকোর্টে মামলা করেন। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে মামলার শুনানি চলাকালীন মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, সংবিধানের ২৪৩ (আর) ধারা অনুযায়ী পুরসভার মেয়র হতে পারেন একমাত্র নির্বাচিত কাউন্সিলরই৷ বহিরাগত কারোর যোগ্যতা নেই মেয়র পদে বসার৷

রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে চটজলদি ১৯৮০ সালের আইনে সংশোধনী এনেছে৷ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্য না থাকলে সরকারের কি এমন দরকার পড়ল যে বহিরাগত ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র পদে বসানোর। রাজ্যের শাসকদলের হাতে তো সর্বাধিক কাউন্সিলর রয়েছে ওই পুরসভায়। তাদের বাদ দিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিকে মেয়র করা হচ্ছে কেন? এটা তো সংবিধানের ২৪৩ আর ধারার পরিপন্থী৷

এছাড়াও বিকাশ ভট্টাচার্যের অভিযোগ ছিল, ১৯৮০ সালের আইনে সংশোধনী আনার জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেয়নি সরকার। তাই এই সংশোধনী বেআইনি৷ বিরোধিতা করেন রাজ্যের আডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। তিনি বলেন, সংবিধান মেনেই কলকাতা পুরসভার আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত আইন সংবিধানের পরিপন্থী নয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী পদের ক্ষেত্রেও তো বাইরের কাউকে সেই পদে বসানো যায়৷ এরপর সেই ব্যক্তিকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভোটে জিতে আসতে হয়। তাহলে মেয়র পদের ক্ষেত্রে হবে না কেন? আর এই আইন সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের দরকার নেই।

কলকাতার পুরসভার আইনজীবী শক্তিনাথ মুখোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, বিধানসভায় রাজ্য সরকারের অধিকার রয়েছে পুরসভার বিলে সংশোধনী আনার। তাকে আইনে পরিনত করার।

শুক্রবার ছিল এই মামলার শুনানি৷ উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে বিচারপতি দেবাংশু বসাক মেয়র নির্বাচনের বৈধতা মামলাটি খারিজ করে দেন৷