স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : ডেঙ্গু ইস্যুতে ফের হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য সরকার৷ রাজ্য সরকারের কাছে ডেঙ্গু নিয়ে কোনও তথ্যই নেই বলে মনে করছে কলকাতা হাইকোর্ট৷ তাই রাজ্যকে সমস্ত রিপোর্ট নিয়ে হাজির হতে বলেছে আদালত৷ আগামী শুক্রবার এ নিয়ে শুনানি৷

ডেঙ্গু ইস্যুতে এমনিতেই রাজ্য সরকারের অবস্থা ল্যাজেগোবরে৷ সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকে প্রায় তিনমাস ধরে এই অবস্থা চলছে৷ রাজ্যে প্রায় রোজই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা৷ সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি, নেতা-আমলা কেউই বাদ যাচ্ছেন না৷ একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে মৃত্যুও হয়েছে অনেকের৷ আর মৃত্যুর আসল সংখ্যা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তরজা চলছে এখনও৷ ফলে এ নিয়ে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে সব মহলে৷ রাজ্য সরকার যদিও প্রথম থেকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতাকে অস্বীকার করছে৷ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই দাবি করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে৷

যদিও রাজ্যের এই দাবি মানতে নারাজ আক্রান্তদের আত্মীয়রা৷ অনেকেরই দাবি, প্রশাসনের চাপে পড়ে ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গু লেখা হচ্ছে না৷ তাই এ নিয়ে তিনটি জনস্বার্থ মামলা হয় হাইকোর্টে৷ সেই তিনটি মামলার শুনানিই চলছে একসঙ্গে৷ এর মধ্যে যে কয়েকটি শুনানি হয়েছে, প্রতিটিতেই রাজ্যকে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে৷ প্রতিবারই রাজ্যের কাছে সঠিক তথ্য দাবি করা হয়েছে৷ আর কোনওবারই রাজ্য তা দিতে পারছে না৷ ফলে শুক্রবারও আদালতের তোপের মুখে পড়তে হল রাজ্যকে৷ কলকাতা হাইকোর্ট এদিন রাজ্যকে ডেঙ্গু ইস্যুতে সঠিক তথ্য নিয়ে আগামী শুক্রবার পরবর্তী শুনানির দিন উপস্থিত থাকতে বলেছে৷

একই সঙ্গে আরও বেশকিছু বিষয়ে আদালতের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যকে৷ আদালতের বক্তব্য, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের টাকা খরচ করতে পারেনি৷ তাই কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে৷ পাশাপাশি আদালত জানতে চায়, কী কী পদক্ষেপ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার নিয়েছে৷ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যে স্প্রে গান কেনা হয়েছে, সেগুলি ব্যবহার হচ্ছে কি?

এদিকে এদিনও ডেঙ্গু বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল বিধানসভায়৷ বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান এদিন অভিযোগ করেন, ‘‘রাজ্যের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে৷রাজ্যে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার নিয়েছে, আমরা মুলতবি চেয়েছিলাম৷ আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল৷ এখন স্পীকার বলছেন, মামলা চলছে তাই আলোচনা করা যাবে না৷’’

মান্নানের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাজ্যের এক মন্ত্রী ডেঙ্গু নিয়ে বিধানসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন৷ মামলা চললে এটা কী করে হয়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি৷ তাঁর দাবি, এটা আসলে বিরোধীদের অবমাননা৷ তাই এদিন অধিবেশন বয়কট করে কংগ্রেস৷