নয়াদিল্লি: কেন্দ্র থেকে কড়া সতর্কতা জারি৷ যে কোনও সময়ে পুলওয়ামার ধাঁচে হামলা চলতে পারে দেশের সাতটি রাজ্যে৷ জইশ ই মহম্মদ জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি৷ শুধু সীমান্ত নয়, দেশের অভ্যন্তরেও আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে বেশ কয়েকটি সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা৷

সেই মর্মেই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট সাতটি রাজ্যে৷ অন্যান্য রাজ্যগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে৷ জি নিউজের একটি সূত্র জানাচ্ছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনা করেছে৷ এর মধ্যে রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকাও৷

আরও পড়ুন : কাশ্মীরে ঢুকতে দেওয়া হল না গুলাম নবি আজাদকে

জানা গিয়েছে দিল্লি, রাজস্থান, পঞ্জাব, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে এই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে৷ হামলার মদত দেওয়ার জন্য তথ্য সরবরাহ করছে পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই৷ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে কায়দায় পুলওয়ামায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেই একই কায়দায় এই সাত রাজ্যে হামলা চালানো হতে পারে বলে গোয়েন্দাদের আশংকা৷

সেনা, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে বলে খবর৷ মূলত ১৫ই অগাষ্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন এই হামলা হতে পারে যে কোনও জায়গায়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে৷ এলাকায় কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তির আনাগোনা দেখলেই খবর দিতে বলা হয়েছে পুলিশকে৷ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথিদের আনাগোনাকে টার্গেট বানাতে পারে জঙ্গিরা বলে সূত্রের খবর৷ ফলে ১০ই অগাষ্ট থেকে ২০শে অগাষ্ট কড়া নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন : কাশ্মীরের বিষয়ে আমেরিকাকে কিছুই জানায়নি ভারত

যে সব গাড়ির বৈধ অনুমতিপত্র রয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলে সেই সব গাড়িকেই প্রবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হবে৷ বিমানবন্দরগুলিতেও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ মোট ১৭টি বিমানবন্দরে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট৷ এরমধ্যে রয়েছে কলকাতা বিমানবন্দরও৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর থেকেই গোয়েন্দাদের কাছে এসে পৌঁছেছে একাধিক সতর্ক বার্তা৷ যার ওপর ভিত্তি করেই গোটা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷

ইতিমধ্যেই নিজেদের এয়ারস্পেস বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সেই এয়ারস্পেস। এদিকে, বুধবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তানে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপরই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।