বার্মিংহ্যাম: সাধারণত স্লিপ কিংবা ব্যাটসম্যানের কাছাকাছি কোনও একটা স্থানে তাঁকে ফিল্ডিং করতে দেখা যায়। কিন্তু শনিবাসরীয় দুপুরে এজবাস্টনে যখন তাঁর কাছে বাউন্ডারি লাইনে যাওয়ার নির্দেশ এল, তিনি ধরেই রেখেছিলেন গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ আছড়ে পড়তে চলেছে তাঁর উপর। তাই সেই বিদ্রুপ সামলাতে পালটা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুতও রেখেছিলেন স্যান্ডপেপার গেট কান্ডের অন্যতম চরিত্র ডেভিড ওয়ার্নার।

যেমনটা ভাবা গিয়েছিল, বাস্তবে হলও ঠিক তেমনটাই। ‘ওর হাতে স্যান্ডপেপার আছে…’ কাছাকাছি আসতেই ওয়ার্নারকে নিয়ে গ্যালারিতে গান বাঁধলেন ব্রিটিশ সমর্থকেরা। প্রথমটায় কেবল হাসিমুখে দর্শকদের তিরস্কারের সামনে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মাত্রা বাড়তেই এজবাস্টনের গ্যালারির কাছে আত্মসমর্পণ করলেন অজি ওপেনার। প্রথমে মুঠো খুলে হাত ঝেড়ে তারপর প্যান্টের পকেট ঝেড়ে গ্যালারিকে ওয়ার্নার আশ্বস্ত করেন যে তাঁর কাছে সত্যিই স্যান্ডপেপার (শিরীষ কাগজ) নেই।

আরও পড়ুন: ফের ভরসা জোগাচ্ছেন স্মিথ, তৃতীয়দিনের শেষে ৩৪ রানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

রসিকতার ছলে ওয়ার্নারের এই বিদ্রুপের জবাব মনে ধরে এজবাস্টনের গ্যালারির। করতালি দিয়ে অজি ওপেনারকে অভিবাদন জানান তারা। তবে বিদ্রুপের পর গ্যালারির মন জিতলেও কামব্যাক টেস্টে ব্যাট হাতে অজি সমর্থকদের দিল জিততে ব্যর্থ ওয়ার্নার। প্রথম ইনিংসে ২ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৮ রানে ব্রডের শিকার হলেন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না আরেক ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটের ইনিংসও। ৭ রানে মইন আলির শিকার হলেন তিনি।

আরও পড়ুন: সাইনির সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যত: বিরাট কোহলি

এরপর উসমান খোয়াজা ও স্টিভ স্মিথের ব্যাটে ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের রান ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু জুটিতে ৪৮ রান ওঠার পর ব্যক্তিগত ৪০ রানে স্টোকসের বলে উইকেটের পিছনে বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন খোয়াজা। ৬টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৮ বলে ৪০ রান করে ফেরেন তিনি।

আরও পড়ুন: নজির গড়ে থাইল্যান্ড ওপেনের ফাইনালে সাত্যিক-চিরাগ জুটি

খোয়াজা ফিরে যাওয়ার পর ট্রেভিস হেডকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষের রান ছাপিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে লিড এনে দেন স্টিভ স্মিথ। হেডের সঙ্গে স্মিথের অবিভক্ত জুটিতে ৪৯ রান ওঠার পর মন্দ আলোর কারণে এদিনের মত খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়ারদ্বয়। প্রথম ইনিংসে শতরানের দ্বিতীয় ইনিংসেও অর্ধশতরানের দোরগোড়ায় স্যান্ডপেপার গেট কান্ডের অন্যতম নায়ক তথা প্রাক্তন অজি দলনায়ক স্মিথ। ৪৬ রানে স্মিথের পাশাপাশি ২১ রানে ক্রিজে অপরাজিত টেভিস হেড। তৃতীয়দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৪। এগিয়ে ৩৪ রানে।

এর আগে তৃতীয়দিন ৩৭৪ রানে শেষ হয় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। নবম উইকেটে ক্রিস ওকস ও স্টুয়ার্ট ব্রডের জুটি প্রথম ইনিংসে লিড অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়ে যায় ইংল্যান্ডের জন্য। ৩০০ রানে ৮ উইকেট খোয়ানোর পর নবম উইকেটে এই জুটির ৬৫ রানের মূল্যবান অবদান ইংল্যান্ডের লিড নিয়ে যায় প্রায় তিন অঙ্কের কাছাকাছি। ৯৫ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন ওকস। পাশাপাশি ৬৭ বল মোকাবিলা করে ২৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন ব্রড।