স্টাফ রিপোর্টার, আসানসোল: প্রকৃতি পুজোয় অভ্যস্ত আদিবাসী সমাজেও ঘটা পালিত হয় দুর্গাপুজো৷ কুলটির আদিবাসী সমাজের গুরু সিংরাই বাবা নিজে আশ্রম গড়ে হিন্দু দেবদেবীদের পুজো করে আসছেন কুড়ি বছর ধরে৷ এখানে আদিবাসী মন্ত্রে পূজিত হন দুর্গা৷ আসানসোলের নিয়ামতপুরের সিংরাই মারান্ডির দুর্গা পুজোর মধ্যে রয়েছে নানা অভিনবত্ব যা দেখতে ভিড় জমান নিয়ামতপুরের বাসিন্দারা৷

সপ্তমী-অষ্টমী-নবমী-দশমী চারটে দিন জমজমাট থাকে নিয়ামতপুরে আদিবাসীদের আশ্রম। সিংরাই মারান্ডি জানান এখানে দুর্গাপুজোর জন্য কোনও ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতকে ডাকা হয় না। তিনি বেশকিছু মন্ত্রকে আদিবাসী ভাষায় রূপান্তরিত করেছেন। সেই মন্ত্র পড়ে তিনি সপ্তমীর পুজো শুরু করে দেন।

তারপরেই ভক্তরা পুজোর ডালি নিয়ে আসেন ও নিজেরাই পুজো করেন চলে যান। আদিবাসী দেবতা মারাংবুরুর পুজো হয় ঠিক যে নিয়মে সেই নিয়মেই দুর্গাপুজো হয় এখানে৷ আরও একটি বৈশিষ্ট হল মা দুর্গার পরিবার ও অসুরের একচালার প্রতিমার সঙ্গে এখানে দেখা যায় বিষ্ণুর এক অবতারকে। নৃসিংহের মূর্তিটি থাকে কার্তিকের পাশেই। আদিবাসী বাবা সিংরাই মারান্ডির যুক্তি মা দুর্গা ও অসুরের লড়াইয়ে হার জিতের বিচার করেন ওই নৃসিংহ অবতার। দুর্গাপুজো চালুর আগে তিনি এরকমই এক প্রতিমার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাই সেভাবেই প্রতিমা তৈরি করিয়েছেন।

সিংরাই বাবার স্ত্রী লক্ষ্মী মারান্ডি জানান, এই মন্দিরে সারা বছর মা দুর্গা থাকেন। পঞ্চমীর দিন পুরানো মূর্তি বিসর্জন করে নতুন মূর্তি বসানো হয়। এখানে দশমীর বিষাদ নেই। ফলে, বিসর্জন নিয়ে এখানে কোনও সরকারি নিয়ম নীতি নামা হয় না৷ কারণ, দশমীতে বিসর্জের পরিবর্তে মা দুর্গাকে রেখে দেওয়া হয় এক বছর। ভক্তরা জানান নবমীর দিন মন্দিরের বাইরে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হয়। একপক্ষ দেবতা ও অন্যপক্ষ অসুরের সাজেন। অভিনব এই পুজো দেখতে সাধারণ মানুষও ভিড় জমান কুলটির নিয়ামতপুরে৷