হিন্দু ধর্মে ‘স্বস্তিকা’ চিহ্ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। নৃশংসতা ও স্বৈরাচারীতা বলতেই যার নাম মাথায় আসে, সে হিটলারই প্রথম ব্যবহার করেছিলেন স্বস্তিকা চিহ্ন। কিন্তু অনেকেই এই তথ্যের বিরোধিতা করবেন। কারণ ইতিহাস বলছে হিটলারের হাজার বছর আগেই নাকি তৈরি হয়েছিল এই চিহ্ন।

স্বস্তিকা শব্দের অর্থ হল ‘সৌভাগ্য’, ‘ভালো থাকা’, ‘ভালো অস্তিত্ব’। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নাম স্বস্তিকা চিহ্নের। এই চিহ্নের নাম চিনে ‘ওয়ান’, জাপানে ‘মানজি’, ইংল্যান্ডে ‘ফাইলফট’।

স্বস্তিকা চিহ্নকে পবিত্র বলে মনে করা হলেও এরও দুটি দিক আছে। হিন্দু ধর্মেও মানা হয় যে এই চিহ্নের ভালো খারাপ দুই দিকই আছে। ডানহাতি স্বস্তিকা হল ভগবান বিষ্ণু ও সূর্যের প্রতীক। বামহাতি স্বস্তিকা চিহ্ন মা কালী ও জাদুর প্রতীক। ১৯৭৯ সালে জানিয়েছিলেন সংস্কৃতবিদ পি আর সরকার।

আকাশে সূর্যের গতিবিধি বোঝাতে প্রথম স্বস্তিকা চিহ্নের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। হিন্দু ও বৌদ্ধদের জন্যও হাজার বছর ধরে এই চিহ্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বহন করে। প্রাচীন গ্রীসে প্রায় ৪০০০ বছর আগেও এই চিহ্নের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।
অনেকেরই প্রশ্ন এই চিহ্ন কী কৃষ্ণ তৈরি করেছিলেন? শোনা যায় যে দ্বারকাতে শ্রীকৃষ্ণ স্বস্তিকা তৈরি করেছিলেন। প্রায় ৫০০ বছর আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে এই স্থানটি জলের তলায়। তাই এই প্রাচিন চিহ্ন কৃষ্ণের হাতে তৈরি কিনা সেই তথ্য যাচাই করে দেখা সম্ভব হয়নি।

সূর্য ছাড়া পৃথিবী অচল। সেরকমই স্বস্তিকা চিহ্নের চারটি হাতের অর্থ ছাড়াও মানবজীবন অসম্পূর্ণ। স্বস্তিকার চারটি হাত চারটি দিক উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম, এবং চারটি বেদ ঋক, সাম, যজু ও অথর্বকে নির্ধারণ করে। এছাড়াও ধর্ম, অর্থ, কাম, ও মুক্তিও প্রকাশ পায় স্বস্তিকার চারটি হাতের মাধ্যমে।

কিন্তু হিটলার কেন এই চিহ্ন ব্যবহার করেছিলেন তা নিয়ে অনেক জল্পনা আছে। হিটলার মনে করতেন স্বস্তিকা আর্যদের চিহ্ন। তাই বর্ণবৈষ্যমতাকে আস্কারা দিতে তিনি এই চিহ্ন ব্যবহার করেছিলেন।