স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হল। এদিন স্বপ্না বর্মণের মা বাসনা বর্মণের হাত দিয়ে রাস্তার কাজের উদ্বোধন হয়। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বারোপাটিয়া নতুন বস গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতার কাজ শুরু হল।

মোট ২৪ লক্ষ টাকা খরচ করে রাস্তাটি সংস্কার করা হচ্ছে। কয়েক মাস সময় লাগবে কাজটি শেষ হতে। এদিন জেলা পরিষদের সদস্য গীতা রাজবংশী ও বারোপাটিয়া নতুন বস গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান কৃষ্ণ দাস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রামবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হতে চলছে তাই খুশি সকলেই৷

আশায় বুক বেঁধেছিল জলপাইগুড়ি। স্বপ্ন ছিল স্বপ্না সোনা নিয়েই জাকার্তা থেকে ফিরবে। অবশেষে স্বপ্নপূরণ হয়েছিল। হেপ্টাথলনে সোনা জিতে ফিরেছিলেন সোনার মেয়ে স্বপ্না। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে পাড়ি দিয়েছিল এশিয়াডে। সেই মেয়ে যে সোনা জয়ের আশা দেখাবে সেটাই ভাবতে পারেননি বাবা-মা থেকে পাড়াপড়শি।

বাংলা থেকে ক’টা মেয়ে আর এশিয়াডের মতো বড় মঞ্চে সোনার স্বপ্ন দেখায়। দেখিয়েছেন স্বপ্না বর্মণ। শুধু স্বপ্নই দেখাননি। সোনা জিতে প্রমাণ করেছেন বাংলার মেয়েরা শুধু স্বপ্ন দেখায় না। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়। তাঁর সোনা জয়ে স্বপ্নেই বিভোর ছিল জলপাইগুড়িবাসী। সেই সময় এশিয়াডের সোনা জয়ের স্বপ্নের মাঝেই স্বপ্নাকে ভুগিয়েছে দাঁতের ব্যথা। বাধা অতিক্রম করেই সোনা ছিনিয়ে নিয়েছিল স্বপ্না।

যদিও দাঁতের যন্ত্রণার থেকেও দারিদ্রের জ্বালা তার কাছে আরও বড়৷ দরমার ঘরে বেড়ে ওঠা স্বপ্নাকে তাই বোধহয় কাবু করতে পারেনি দাঁতের ব্যাথা৷ তার বাবা পঞ্চানন বর্মণ পেশায় ভ্যান রিকশা চালক ছিলেন। প্রায় তিন বছর হল বাবা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে। মা বাসনা বর্মণ স্থানীয় চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন স্বামীর অসুস্থতার কারণে চা বাগানের কাজ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।

এরপর স্বপ্নাকে ৩০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে। পছন্দমত কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এমনকি আগামীতে স্বপ্নার প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে স্বপ্নার গ্রামে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এস এস আলুওয়ালিয়া। তাঁর এই সোনা জয়ের পর চাকরির পাশাপাশি ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।