লন্ডন: প্রথম ছ’ম্যাচের সবক’টিতে জিতে লিগ শীর্ষে থেকেই শনিবার মাঠে নেমেছিল জুর্গেন ক্লপের ছেলেরা। শেফিল্ড ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে লিভারপুলের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল অল-উইন রেকর্ড বজায় রাখা। কিন্তু ঘরের মাঠে ইউরোপ সেরাদের বিরুদ্ধে এদিন সমান তালে লড়ে গেল চলতি মরশুমে প্রিমিয়র ডিভিশনে উন্নীত হওয়া ক্রিস উইল্ডারের ছেলেরা।

জর্জিনিও উইনালডমের গোলে চলতি প্রিমিয়র লিগের প্রথম সাত ম্যাচে টানা সপ্তম জয় তুলে নিল দ্য রেডস’রা। তবে সারা ম্যাচে জুর্গেন ক্লপের ছেলেরা এদিন মোটেই লিভারপুল সুলভ ফুটবল উপহার দিতে পারেনি। ৭০ মিনিটে শেফিল্ড গোলরক্ষক হেন্ডারসন মারাত্মক ভুলটা না করলে লিগে এদিন প্রথম পয়েন্ট নষ্ট করতে হত ইউরোপ সেরাদের। ম্যাচ শেষের ২০ মিনিট আগে এদিন শেফিল্ড রক্ষণের বেড়াজাল টপকে গোল লক্ষ্য করে প্রথম শট নিতে সক্ষম হয় লিভারপুল। আর উইনালডমের সেই ভলি রিসিভ করতে গিয়েই শিক্ষানবিশী ঢং’য়ে ফস্কালেন হেন্ডারসন।

উইনালডমের ভলি খুঁজে নেয় গোলের ঠিকানা। সারা ম্যাচে দুরন্ত লড়াইয়ের পরও গোলরক্ষকের ভুলে পয়েন্ট হাতছাড়া করে শেফিল্ড। গোল হজম করেই হতাশায় মুখ ঢাকেন হেন্ডারসন। ম্যাচের ললাটলিখন স্পষ্ট হয়ে যায় সেখানেই। ঘরের মাঠে এদিন প্রথমার্ধে বারদু’য়েক গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল শেফিল্ড। পালটা সাদিও মানেও সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন লিভারপুলকে এগিয়ে দেওয়ার। কিন্তু থ্রু বল ধাওয়া করে বক্সের মধ্যে তাঁর ভলি বার উঁচিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। বিরতির সামান্য আগে মানে ও গোলের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় পোস্ট।

লকাররুম থেকে ফিরে বারদু’য়েক লিভারপুল রক্ষণে হানা দেয় শেফিল্ড। কর্নার থেকে ম্যাকবার্নির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩০ গজ দূর থেকে নরউডের দূরপাল্লার শট দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় প্রতিহত করেন লিভারপুল গোলরক্ষক আদ্রিয়ান। এরপর ৭০ মিনিটে উইনালডমের ভলি ও বিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলে ডেডলক খোলে লিভারপুল। এরপর ৭৮ মিনিটে একের বিরুদ্ধে এক সিচুয়েশনে বল ধরে আগুয়ান মোহামেদ সালাহ’র শট অনবদ্য সেভ করলেও লিভারপুলের তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়ে যায় আগেই। এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগের মগডালে গতবারের রানার্সরা। পাশাপাশি গত মরশুম ধরলে প্রিমিয়র লিগে টানা ১৬ ম্যাচে জয় পেল রেডস’রা।

লিগের অন্য ম্যাচে সাউদম্পটনকে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারাল টটেনহ্যাম হটস্পার। লিগ কাপে কোলচেস্টারের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর এদিন দলকে জয় এনে দেয় এনদেম্বেলে ও কেনের জোড়া গোল। ২৪ মিনিটে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে এনদেম্বেলে দলকে এগিয়ে দিলেও ৩১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে স্পারসদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেন সার্জ অরিয়র। ৩৯ মিনিটে শেফিল্ড গোলরক্ষকের চেয়েও মারাত্মক ভুল করে বসেন স্পারসের বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক হুগো লরিস।

নির্বিষ একটি ব্যাকপাস নিজের আয়ত্তে নিতে গিয়ে ভুল করে বসেন দলনায়ক। লরিসের ব্যর্থতার সুযোগে সাউদাম্পটনকে সমতায় ফেরান ড্যানিয়েল উইলিয়াম। তবে চাপের প্রেসার কুকারে চলে যাওয়া টটেনহ্যামকে স্বস্তি দেন ইংরেজ অধিনায়ক। বিরতির ঠিক দু’মিনিট আগে হ্যারি কেনের গোলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় স্পারসের। এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে স্পারসের সংগ্রহ ১১ পয়েন্ট। আপাতত লিগ টেবিলে চার নম্বরে তারা।