মথুরা: গোলাপি শাড়ি, ম্যাচিং ব্লাউজ, চোখে কালো চশমা ও হাতে ট্রাক্টরের স্টিয়ারিং৷ শুক্রবার এই সাজ ও ভঙ্গিমাতেই দেখা গেল মথুরার বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনীকে৷ আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আরও একবার এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তিনি৷

আগের দিন ভোট প্রচারে হেমা এসেছিলেন মার্সিডিজ গাড়িতে করে৷ বাতানুকূল দামি গাড়িতে চেপে মথুরা কেন্দ্রের গোকুল ও মাহাওয়ান অঞ্চলের সরু গলি দিয়ে যেতে যেতে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন ‘ড্রিম গার্ল’৷ এই দৃশ্য অনেকের কাছে খুবই বেমানান লেগেছে৷ প্রথমত জায়গার সঙ্গে মার্সিডিজ গাড়িটি খুবই বেমানান লেগেছে অনেকের৷ আর এই অঞ্চলের অধিকাংশ ভোটারই মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের৷ সেখানে এমন বিলাসিতা দেখিয়ে ভোট প্রচার করায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় হেমাকে৷

বিরোধীরা পাল্টা এই নিয়ে প্রচারে নেমে পড়ে৷ ভোটারদের তারা বোঝান, মথুরার বাস্তব অবস্থা চোখে পড়ে না হেমার৷ তাই তো তিনি দামি গাড়িতে চেপে অনায়াসে ভোট প্রচারে আসতে পারেন৷ বিষয়টি হেমারও কানে যায়৷ তারপরেই বড়লোকি ইমেজ ঝেড়ে নিজেকে ‘মাটির মানুষ’ বোঝাতে এই তৎপরতা বিজেপি প্রার্থীর৷ মত রাজনৈতিক মহলের৷

এদিন গোলাপি রঙের শাড়ি পড়ে হেমা প্রচারে আসেন গোবর্ধনে৷ সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন৷ পথে যেতে যেতে একটি ট্রাক্টর দেখতে পান৷ শাড়ি পড়া স্বত্ত্বেও সটান উঠে পড়েন চালকের আসনে৷ কিছুটা দুর অবধি ট্রাক্টরটি চালান তিনি৷ তারপর সেখান থেকে নেমে ভিকট্রি চিহ্ন দেখাতে দেখাতে বেরিয়ে যান৷ পর্দার অভিনেত্রীকে এক ঝলক দেখতে বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমান৷

৭০ বছরের হেমা ২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জিতে প্রথমবার সাংসদ হন৷ সেই বছর তিনি পাঁচ লক্ষ ভোটে পরাজিত করেন আরএলডি’র জয়ন্ত চৌধুরীকে৷ এই বার তাঁর বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন আরএলডি’র নভেন্দ্র সিং৷ হেমার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারে তাঁর হাতিয়ার অনুন্নয়ন৷ নভেন্দ্র সিংয়ের অভিযোগ, সাংসদ হওয়া স্বত্ত্বেও মথুরার উন্নয়নে কিছুই করেননি হেমা৷ গতবার কেবল মোদী হাওয়ার জেরে তিনি সাংসদ হয়ে যান৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।