ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ওঁদের স্বপ্নের রং সবুজ মেরুন। ওঁদের রক্তে মোহনবাগান। ভেবেছিলেন মোহনবাগানের সমর্থকরা মিলে একটি সম্মিলিত সংগঠন গড়ে তুলে মানবিক কাজ করবেন। কাজ করবেন শীতে গরীবদের কম্বল বিতরণ করে , বর্ষায় মাথায় ছাতা ধরে কিন্তু আজকের খবরে মন ভেঙে গিয়েছে মানবিক হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখা একদল মোহনবাগান সমর্থকের। তবে ওঁরা হাল ছেড়ে দেবে না। ‘এটিকে – মোহনবাগান’ নয় শুধু মোহনবাগান হয়ে কাজ করবে। হয়ে উঠবে মানবিক মোহনবাগান।

দল ওঁদের হৃদয় ভেঙেছে। আবেগে আঘাত দিয়েছে সেই দলটা যার সঙ্গে ১৯১১-র সেই ফুটবল সংগ্রামের যোগ। যার সঙ্গে নাড়ির টান, যে দল মায়ের সমান সেই ক্লাব আজ বিকিয়ে গিয়েছে তাই আজ বহু বাগান সমর্থকের মতোই দুঃখিত। ওঁরা ‘তোমার আমার মোহনবাগান’, যাদের নেতা ডঃ সুমন্ত ঠাকুর। জানালেন, ‘সব বাচ্চা বাচ্চা ছেলে। ওই কুড়ি থেকে আঠাশের মধ্যে বয়স সবার। ওঁরা সবাই মিলে একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলে আমাকে অ্যাডমিন করে। তখন আমি ওদের বলি যে খেলার পাশাপাশি ভালো কিছু কর। মানে মানবিক হয়ে ওঠার কথা বলি। গরীবদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাজও আমাদের শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপর আই লিগ সিজনটা ভালো শুরু হওয়ায় সবাই আনন্দের সঙ্গে কাজ করছিল। স্বপ্ন দেখছিলাম আমাদের দেখে ময়দানের অন্যান্য দলের সমর্থকরা এগিয়ে আসবে মানবিক কাজ করতে। আমি নিজে হেলথ ক্যাম্প করে ফ্রি চিকিৎসার কাজ করব এসব পরিকল্পনা রয়েছে। তার মাঝেই এই খবর। ভাবিনি যে আবেগ এভাবে বিক্রি হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়ব না। ক্লাবকে দেখিয়ে দেব তোমরা বিকিয়ে যেতে পারো, অমানবিক হতে পারো। আমাদের আবেগ বিক্রি হবে না। মোহনবাগান মানবিক হবে সবুজ মেরুনের ১৩০ বছরের ইতিহাসকে বুকে নিয়েই।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘আমরা জানতে চাই এত সমর্থকের এত ডোনেশন, এত আবেগ। ক্লাবটাকে কি বিক্রি করতেই হত ? বিক্রি যদি হয়েই গেল তাহলে আজ আমরা হিসেব চাই।’ আবেগতাড়িত চিকিৎসক তথা কট্টর মোহনবাগান সমর্থক জানালেন , ‘আর মাঠে যাব না। নিতে পারব না মোহনবাগানের বিক্রি হয়ে যাওয়া!’ ওঁরা আরও জানাচ্ছেন , ‘তোমার হারে ভেঙে পড়েছি বহু বার আবার তোমার জয়ে ধর্মতলার মোড়ে উন্মাদের মতন আবির মেখে নেচেছি।জানি না কি হবে কেন হবে কি ভাবে হবে তবে তোমার নামের পরিবর্তন মানতে পারবো না।আজ ভীষণ মনে হচ্ছে যদি আমার ক্ষমতা থাকতো বাঁচানোর তবে বিশ্বাস করো বিক্রি করতে দিতাম না ঐ পিশাচগুলোকে।

জানি না তোমার নাম কি হবে তবে আমার কাছে তুমি “মোহনবাগান” এক এবং অদ্বিতীয় শাসক ভারতীয় ফুটবলের।মানতে পারবো না তোমার অপমান।ভরসা রাখবো সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে। আমি একজন মোহনবাগান সমর্থক, এটিকে মোহনবাগান বা মোহনবাগান এটিকে র সমর্থক আমি নই। তোমার কষ্টে আমি ভবিষ্যতেও কাঁদব তবে গ্যালারি তে বহুমুখী ভিড়ে হয়তো আর দেখবে না আমাকে পয়লা জুনের পর।’ তবে লক্ষ্য একটাই মানবিক হয়ে উঠবেন ওঁরা সবাই। দেখিয়ে দেবেন ওঁদের রক্তের রং সবুজ-মেরুণ।