ব্যাংকক: আর একটু, আর একটু…আর একটু অপেক্ষা করো৷ কিন্তু অপেক্ষার শেষ নেই৷ এদিকে জল ক্রমশ বাড়ছে৷ কমে আসছে অক্সিজেন৷ যে বুক ভরা দম নিয়ে মাঠে বল দখলের লড়াই চলে সেই দমটুকই ভরসা৷ মেসি-রোনাল্ডো হওয়া তাদের দু চোখের স্বপ্ন৷ আপাতত গভীর গহীন অন্ধকার গুহায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সুতোর মতো ঝুলছে ১২ জন থাই খুদে ফুটবলার৷ বিশ্ব মেতে ফুটবল উৎসবে৷ থাইল্যান্ড চিন্তিত তাদের ফুটবলারদের বাঁচাতে৷

গত শনিবারের ঘটনা৷ বিবিসি জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির জেরে কোচের সঙ্গে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১২ জন ফুটবলার থাইল্যান্ডের চিয়াংরাই প্রদেশের একটি গুহায় আটকে পড়ে৷ থাম লুয়াং নাং নন নামে সেই গুহায় ঢোকার পর থেকে তারা নিখোঁজ৷ এর মধ্যে এলাকায় বন্যা শুরু হয়৷ আর বানের জল ঢুকে গুহামুখ প্রায় বন্ধ৷ ভিতরে আটকে পড়া কোচ সহ খুদে ফুটবলারদের উদ্ধার করা কি আদৌ সম্ভব হবে ?

গুহার ভেতরে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যদি খুদে ফুটবলারদের পোশাক ভিজে থাকে তাহলে এই তাপমাত্রা সহ্য করা সম্ভব নয়৷

এক সপ্তাহ হয়ে গেল৷ ওরা কী খাচ্ছে ? কী করে শ্বাস নিচ্ছে জানতে পারেনি কেউ৷ শনিবার নিখোঁজ হওয়ার কবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় উদ্ধার কাজ৷ থাই সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না৷ বন্যার জল এত বেড়েছে যে প্রথম দিকে উদ্ধার কাজ বন্ধ করে দিতে হয়৷ এরই মাঝে পার হয় কটা দিন৷ উপর থেকে কিছু না জানা গেলেও এটা পরিষ্কার যে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে আটকে পড়া ১৩ জন৷

ব্যাংকক পোস্ট সহ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, থাম লুয়াং নাং গুহার প্রবেশ পথ সম্পূর্ণ জলের তলায়৷ ফলে উদ্ধারের জন্য নামানো হয়েছে
সেনাবাহিনী, ডুবুরিদের৷ শুরু হচ্ছে গুহার অন্যপাশে মাটি খুঁড়ে নতুন রাস্তা তৈরি করে ভিতরে ঢোকার৷ এদিকে জল বাড়তে থাকায় আটকে পড়া প্রত্যেকের পরিবার উদ্বিগ্ন৷ ক্রমশ কমছে তাদের বেঁচে থাকার আশা৷ গুহার মুখে কাদামাটিতে থাকা কয়েক জোড়া বুটের ছাপই তাদের কাছে সম্বল৷

থাইভূমি থেকে ছড়িয়ে পড়েছে এই খবর৷ কত দেরি আর খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধার করতে ? উত্তর নেই ৷ শুধু অপেক্ষা…কেউ বলছেন ওরা ঠিক ফিরে আসবে৷ যেমন মেসি ফিরে এসেছেন তাঁর গোলের জাদুতে৷ আশা-আশঙ্কার দোলাচলে দুলছে থাইভূমি৷