নয়াদিল্লি : সোমবার সকাল থেকেই গুজরাত ও রাজস্থানে সতর্কতা জারি করল মৌসম ভবন৷ সাইক্লোন বায়ুর জেরে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে এই দুই রাজ্যে৷ সোমবার সকালেই সাইক্লোন বায়ু গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে৷ এই নিম্নচাপের জেরেই বৃষ্টি হবে গুজরাত ও রাজস্থান জুড়ে৷

উত্তর গুজরাতে সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হবে বৃষ্টি বলে জানানো হয়েছে৷ উত্তর পূর্ব আরব সাগরের ওপর অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপটি৷ নালিয়া থেকে ২৬০ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, দ্বারকা থেকে ২৪০ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে ও ভুজ থেকে ৩৪০ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপ৷

নিম্নচাপ এগোতে শুরু করেছে উত্তর পূর্ব দিকে৷ ঘন্টায় ১৩ কিমি বেগে এই নিম্নচাপ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস৷ তবে আগামী ছয় ঘণ্টায় এই গভীর নিম্নচাপ শক্তি হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হবে৷ ফলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷

আরও পড়ুন : ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য তৈরি ১০-১৫ জন সশস্ত্র জঙ্গি: রিপোর্ট

গুজরাতের সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছতে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে৷ আগামী দুদিন ধরে বৃষ্টি চলবে বলে খবর৷ বৃষ্টি চলবে উত্তর গুজরাত জুড়ে৷ যদিও আগামিকাল বৃষ্টির পরিমাণ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ রাজস্থানেও এই বৃষ্টি হবে৷ বিশেষ করে দক্ষিণ রাজস্থানের একাধিক প্রান্তে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে৷ উত্তর গুজরাত ও দক্ষিণ রাজস্থানের একাধিক জায়গায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৫০ থেকে ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা৷ সোমবার বিকেল থেকেই ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে দুই রাজ্যের বেশ কিছু অংশে৷

এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে৷ আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী উত্তাল হতে পারে আরব সাগর৷ বিশেষত গুজরাত উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে উত্তাল ঢেউয়ের প্রকোপ দেখা দিতে পারে৷

আরও পড়ুন : পক্ষ-বিপক্ষ ভুলে ‘নিরপেক্ষ’ হয়ে কাজ শুরু হোক : মোদী

সাইক্লোন বায়ু নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ ছিল গুজরাতে৷ তবে একটুর জন্য বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় এই রাজ্য৷ উপকূলবর্তী এলাকার ওপর দিয়েই বেরিয়ে যায় সাইক্লোন বায়ু৷ ৫৬০টি গ্রামের বিদ্যুত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়৷ পরে স্বাভাবিক হয় বিদ্যুৎ পরিষেবা৷ এরই মধ্যে, অল ইণ্ডিয়া ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভেলজিভাই মাসানি জানান, সরকার যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা প্রশংসা যোগ্য৷ সাধারণ মৎস্যজীবীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য যেভাবে সতর্কতা জারি করা হয়েছে তা কাজে লেগেছে৷ প্রায় ৮০০০ মৎস্যজীবীকে সৌরাষ্ট্র এলাকা থেকে সরিয়ে আনা হয়৷ ১২০০ মাছ ধরার নৌকাকে মাঝ সমুদ্র থেকে ফেরত আনা হয়৷

গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ গুজরাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি৷ বিশকেক থেকে ফোন আসে এদিন গুজরাতে৷ এসসিও সামিটে যোগ দিতে তখন প্রধানমন্ত্রী কিরঘিজস্থানে ছিলেন৷ গুজরাতকে যাবতীয় সাহায্য করতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলে জানান তিনি৷