সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : লকডাউন চার শেষের পথে। লকডাউন ৫.০ আসন্ন। এই ৬০ দিন অতিক্রান্ত দীর্ঘ লড়াই যে আরও দীর্ঘ হতে চলেছে তা স্পষ্ট। কিন্তু স্পষ্ট নয় এই লড়াইয়ের ফল কী হচ্ছে। তবে এটাও সত্য যে এই সময়ে ভালো হয়েছে প্রকৃতির। পশ্চিমবঙ্গে বেড়েছে বৃষ্টির পরিমান।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে মিলছে এই তথ্যই। মার্চ থেকে শেষ হতে চলা মে মাস পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। উত্তরবঙ্গেও প্রচুর বেশি বৃষ্টি হয়েছে এই সময়ে কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে এতও বেশি বৃষ্টি হয়েছে যে, তা সহজেই টেক্কা দিচ্ছে পাহাড়কে। এমনিতেই গ্রীষ্মের শুরুতেই হাওয়া অফিস জানিয়েছিল এই মরসুমে বর্ষায় উত্তরবঙ্গের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গে। বর্ষার পূর্বেই সেই পূর্বাভাস মেলার ইঙ্গিত মিলছে।

দেখা যাচ্ছে পয়লা মার্চ থেকে থেকে মে মাস পর্যন্ত ৯৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমান ১৭৯ মিলিমিটার। বৃষ্টি হয়েছে, ৩৪৪.৮ মিলিমিটার। বৃষ্টির পরিমান প্রায় দ্বিগুণ। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিনানব ৪২১.৯ মিলিমিটার। বৃষ্টি হয়েছে ৪৮৯.১৪. শতাংশের বিচারে তা মাত্র ১৬ শতাংশ।
বাংলায় বর্ষা আসবে ১১ জুন নাগাদ। সাধারণত ১৫ জুন বাংলায় বর্ষা আসে। কিন্তু সাগরের হওয়ার ধাক্কা এবং অপরদিকে আমফান এগিয়ে আনছে বাংলায় বর্ষা আগমনের সময়কে। এমনটাই জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবারই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে ফেলে বর্ষার মেঘ।

আমফান ধাক্কা দিয়ে আগেই আন্দামানের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিমী মৌসুমী বায়ুকে ঠেলে দিয়েছিল। তার উপর ক্রমাগত পূবালী হাওয়া এবং মেঘের উপর নির্ভর করে দক্ষিণ বঙ্গপসাগরে আরও এগিয়ে আসে দক্ষিণ-পশ্চিমী মৌসুমী বায়ু এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে বর্ষা।

পাঁচ জুনে কেরলেও চলে আসবে বর্ষা। জানা।যাচ্ছে পয়লা জুনেই সেখানে চলে আসবে বর্ষা। এর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কারণ কেরলে বর্ষার গতিবিধির উপরেই নির্ভর করে বাংলায় মৌসুমী বায়ুর প্রবেশ।

অন্যদিকে যেসব মৎস্যজীবী ইতিমধ্যেই সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদেরকে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই ফিরে আসতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে মৎস্যজীবীদের ৩১ মে থেকে ৪ জুনের মধ্যে গভীর সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প