কলকাতা:  আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ৷ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ আজ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে চলেছে । ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আর যার জেরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর হাওয়া অফিস।

বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর সহ গাঙ্গেয় উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি সর্তকতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বাকি জেলাগুলিতেও মাঝারি বৃষ্টি চলবে বলে হাওয়া অফিস। অন্যদিকে হাওড়া, হুগলি ও কলকাতাতেও বুলবুলের দাপটে বৃষ্টির পরিমাণ থাকবে বেশি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের জন্যেও সাইক্লোন বুলবুলের কারণে সর্তকতা জারি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার থেকেই গভীর সমুদ্র থেকে সমস্ত মৎস্যজীবীদের ফেরত আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওয়া অফিস মনে করছে আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই সাইক্লোন বুলবুলের দাপট ৷ আর সেই কারণে এই চার দিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্র যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া দফতর।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের উপর ঘনীভূত হচ্ছে এই সাইক্লোন। শুক্রবার থেকে এই সাইক্লোনের জেরে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে বৃষ্টি শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিন দুপুরে ভয়ঙ্কর সাইক্লোনের আকার ধারণ করবে ‘বুলবুল।’ মৌসম ভবনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুই রাজ্যেই ব্যাপক বৃষ্টি হবে। এরপর শনিবার পর্যন্ত এই ঝড় ক্রমশ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে। তবে যেভাবে এই সাইক্লোন শক্তি পাকাচ্ছে তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সাইক্লোন সতর্কতা হিসাবে জরুরি বৈঠক ডাকলেন ফিরহাদ হাকিম। আজ শুক্রবার পুরসভায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এই ঝড় মোকাবিলায় কি প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে, কীভাবেই তা সামাল দেওয়া যায় তা নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুর আধিকারিকদের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হতে পারে বলে সূত্রে খবর। সেইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ফেণীর সময় কলকাতা পুরসভার তরফে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।