শ্রীনগর: প্রবল দাবদাহে সমতল পুড়ছে৷ গরমে সেদ্ধ হওয়া এখন বাকি আম জনতার৷ জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে৷ বর্ষার আশানুরূপ অগ্রগতি নেই৷ আর কাশ্মীরে এখন বরফ পড়ছে৷ ভাবুন একবার! একে আবহাওয়ার খামখেয়ালি ছাড়া আর কি বলা যায়?

উত্তর, মধ্য, পশ্চিম ও পূর্ব ভারতে গরমের দাপট অব্যাহত৷ কোনও কোনও জায়গায় পারদ ৫০ এর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে৷ লু বইছে উত্তর ভারতে৷ এক পশলা বৃষ্টির আশায় চাতক পাখির মতো আকাশে চেয়ে সবাই৷ আর ঠিক উল্টো ছবি জম্মু কাশ্মীরে৷ বুধবার উপত্যকার বেশ কিছু অংশে ভালো তুষারপাত ও বৃষ্টি হয়েছে৷ জুন মাসে কাশ্মীরে সাধারণত বরফ পড়ার সময় নয়৷ ফলে এই ঘটনায় আবহবিদরাও ধন্দে পড়ে গিয়েছে৷

বুধবার কাশ্মীরের সোনমার্গ, গুরেজ এবং পীর কি গলির মতো জায়গা সাদা তুষারে ঢেকে যায়৷ আর কাশ্মীরের অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টা ধরে প্রবল বৃষ্টি হয়৷ সোমবার থেকে শ্রীনগরে ৩৬ মিমি, গুলমার্গে ৯৬ মিমি, কুপওয়ারাতে ৪২ মিমি, পুঞ্চে ৪২ মিমি এবং পহেলগামে ৫২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে৷

হাওয়া অফিস ভূস্বর্গে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে আবহাওয়া উন্নতিরও পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে৷ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত চলবে৷ তবে বুধবার রাতের পর আবহাওয়ার উন্নতি হবে৷ বৃহস্পতিবার থেকে রোদ ঝলমলে আকাশ দেখা যাবে৷ সব মিলিয়ে গরমে যখন সমতলবাসী হাঁসফাঁস করছে৷ তখন ঠাণ্ডায় কাঁপছে কাশ্মীরবাসী৷ শ্রীনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কাছে৷ পহেলগাম ৬.৬ ডিগ্রি এবং গুলমার্গের তাপমাত্রা এখন ৫ ডিগ্রি৷ লাদাখ ডিভিশনের লেহ তে এদিন পারদ ছুঁয়েছে ৮ ডিগ্রির ঘর৷

আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির উপর নজর রেখে চলেছে আবহবিদরা৷ প্রশাসনকে সময় মতো আবহাওয়ার আপ-টু-ডেট দিয়ে চলেছে৷ পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে আশঙ্কায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে৷ বারামুল্লা জেলায় শ্রীনগর ও মুজফফরবাদ সড়কের কিছু অংশ জলের তলায় চলে গিয়েছে বলে খবর৷ বারামুল্লা ও বান্দিপোরার আপেল বাগানগুলি জলের তলায়৷